
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা মেনে, মঙ্গলবার বিকেলে, নির্ধারিত সময়েই শেষ হয়েছে সরাসরি ভোট প্রচার। মাইক, মিছিল, পথসভা—সবকিছুর ইতি হতেই এবার প্রার্থীদের ভরসা ভার্চুয়াল প্রচার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভিডিও কনফারেন্স এবং ফোন ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে শেষ মুহূর্তে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। এই ময়দানে কেউ কাউকে ছাড়ছে না।

প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক অমিত কুমার সরকার বলেন, ভোটদান শেষের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে কোনওরকম জনসমাবেশ বা প্রচার নিষিদ্ধ থাকায় নিয়ম মেনেই সব দল তাদের প্রচার গুটিয়ে নেয়। তবে বর্তমান যুগে ডিজিটাল মাধ্যমের ওপর নির্ভরতা অনেকটাই বেড়েছে। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ, ফেসবুক লাইভ, ইউটিউব সম্প্রচার থেকে শুরু করে সরাসরি ফোন কল—সব মাধ্যমই ব্যবহার করছেন প্রার্থীরা।

রায়গঞ্জের বিজেপি প্রার্থী কৌশিক চৌধুরী যেমন সরাসরি সোশাল মিডিয়ায় বক্তব্য রেকর্ড করে ভোট প্রার্থনা করেছেন। তেমনি কালিয়াগঞ্জের বিজেপি প্রার্থী উৎপল ব্রহ্মচারী একই পথ অবলম্বন করেছেন। পাশাপাশি, তৃণমূল কংগ্রেসের রায়গঞ্জের প্রার্থী কৃষ্ণ কল্যাণী মোবাইলে ফোন করে, বিধায়ক হিসেবে তাঁর কাজের ফিরিস্তি শুনিয়ে ভোটারকে নিজের পক্ষে ভোটদানে উৎসাহিত করছেন।

রাজনৈতিক মহলের মতে, গ্রামীণ এলাকাতেও এখন স্মার্টফোনের ব্যবহার বাড়ায় ভার্চুয়াল প্রচার যথেষ্ট কার্যকরী হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে যুব ভোটারদের টানতে এই কৌশল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে।

অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনও ডিজিটাল প্রচারের ওপর নজরদারি বাড়িয়েছে। ভুয়ো খবর, উস্কানিমূলক বার্তা বা আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ পেলেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন। সব মিলিয়ে, প্রচারের ময়দান থেকে ভার্চুয়াল জগতে স্থানান্তরিত হয়েছে ভোটের লড়াই। এখন দেখার, এই ডিজিটাল প্রচার কতটা প্রভাব ফেলতে পারে ভোটবাক্সে।






