
#মালবাজার: উড়ন্ত বিমানের দরজা খুলতেই সামনে শুধু সাদা মেঘ আর অসীম নীল। এক মুহূর্তের সিদ্ধান্ত—আর তারপরই শূন্যে ঝাঁপ। ভয় নয়, বরং নিয়ন্ত্রণ আর দক্ষতায় ভর করে নির্দিষ্ট উচ্চতায় প্যারাশুট খুলে মাটিতে অবতরণ। এই রোমাঞ্চই এখন জীবনের অংশ করে নিয়েছেন ডামডিমের মেয়ে মহিমা ছেত্রী।

জলপাইগুড়ির জেলার মাল ব্লকের ডামডিম গ্রাম পঞ্চায়েতের ডামডিম মোড়ের সাধারণ পরিবারে বড় হওয়া এই তরুণী আজ পশ্চিমবঙ্গের প্রথম নারী স্কাই ডাইভার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। যেখানে এখনও এই খেলায় পুরুষদের সংখ্যাই বেশি, সেখানে নিজের জায়গা তৈরি করা সহজ ছিল না। কিন্তু সেই চ্যালেঞ্জই যেন তাঁকে আরও দৃঢ় করেছে।

ছোটবেলা থেকেই নিয়মের পথে চলা—সেনা বিদ্যালয়ে পড়াশোনা, পরে আইন নিয়ে স্নাতক। সব কিছুই ছিল গৎবাঁধা জীবনের মতো। কিন্তু ভিতরে ছিল অন্যরকম টান—অ্যাডভেঞ্চারের প্রতি অদম্য আকর্ষণ। সেই টানই তাঁকে নিয়ে যায় নিরাপত্তা প্রশিক্ষণের জগতে, তারপর ধীরে ধীরে স্কাই ডাইভিংয়ের মতো এক চরম সাহসিকতার খেলায়। বিদেশে গিয়ে প্রশিক্ষণ, ‘এ’ ক্যাটাগরির লাইসেন্স অর্জন, দেশে ফিরে নিয়মিত অনুশীলন—সব মিলিয়ে ইতিমধ্যেই ৩০টিরও বেশি সফল জাম্প করেছেন তিনি। প্রতিটি জাম্পই তাঁর কাছে নতুন চ্যালেঞ্জ, নতুন অভিজ্ঞতা।

তবে এই সাফল্যের পেছনে লুকিয়ে আছে আর্থিক লড়াই। ব্যয়সাপেক্ষ এই খেলায় টিকে থাকতে নিজের উপার্জন আর ঋণের উপরই ভরসা করতে হয়েছে তাঁকে। তবুও থেমে থাকার ইচ্ছা নেই। তাঁর লক্ষ্য আরও বড়—আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা।

এদিকে, তাঁর এই সাফল্যকে কুর্নিশ জানাতে আজ তাঁর বাড়িতে পৌঁছে যান মাল বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী বুলু চিক বাড়াইক। তিনি তাঁকে খাঁদা ও ফুলের তোড়া দিয়ে সংবর্ধনা জানান। তিনি মহিমার হাতে রাজ্য সরকারের উন্নয়নের পাঁচালি তুলে দেন। দেওয়া হয় বিশেষ শংসাপত্র,তাঁর এই উদ্যোগে স্থানীয় মহলেও প্রশংসার সুর শোনা গিয়েছে।

একদিকে আকাশছোঁয়া স্বপ্ন, অন্যদিকে মাটির টান—এই দুইয়ের মাঝেই নিজের পথ তৈরি করছেন মহিমা ছেত্রী। তাঁর গল্প শুধু দুঃসাহসের নয়, বরং প্রমাণ করে—সুযোগ আর সমর্থন পেলে বাংলার মেয়েরাও আকাশ ছুঁতে পারে।






