
#কলকাতাঃ ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে নির্বাচনি লড়াইয়ে বড় পদক্ষেপ নিল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের ইস্তাহারের নাম রাখা হয়েছে ‘প্রতিজ্ঞা’। শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইস্তাহার প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ইস্তাহার প্রকাশের মঞ্চ থেকেই একাধিক জনমুখী প্রকল্প ও প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেন তিনি। ‘দুয়ারে সরকার’-এর সাফল্যের পর এবার নতুন উদ্যোগ হিসেবে ঘোষণা করা হল ‘দুয়ারে চিকিৎসা’। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিটি ব্লকে মেডিকেল ক্যাম্প বসিয়ে উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা সরাসরি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।

মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিশ্রুতি দিয়েই থেমে থাকে না, তা বাস্তবায়ন করে দেখায়। তাঁর তৃনমূল সরকারের অন্যতম জনপ্রিয় প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ আজীবন চালু থাকবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। বর্তমানে সাধারণ শ্রেণির মহিলারা বছরে ১৮ হাজার টাকা এবং তপশিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত মহিলারা ২০,৪০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন। মমতার কথায়, অন্যরা ভোটের সময় প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু আমরা করে দেখিয়েছি।

যুবসমাজের জন্যও বিশেষ বার্তা দেন তিনি। কর্মসংস্থানের খতিয়ান তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, প্রায় ১ কোটি যুবক-যুবতী ভাতা পাচ্ছেন। ‘মেধাশ্রী’ ও ‘যুবশ্রী’-র মতো প্রকল্পগুলি চালু থাকবে এবং চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত পড়ুয়ারা আর্থিক সহায়তা পাবেন। কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশে যেখানে বেকারত্ব ৪০ শতাংশ বেড়েছে, সেখানে বাংলায় তা ৪০ শতাংশ কমেছে। গত কয়েক বছরে ২ কোটি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

দারিদ্র্য দূরীকরণ ও শিল্পায়নের ক্ষেত্রেও একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা হয়েছে এই ইস্তাহারে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে ইতিমধ্যেই ১ কোটি ৭৫ লক্ষ মানুষকে দারিদ্র্যসীমার উপরে তোলা হয়েছে। শিল্প বিনিয়োগের প্রসঙ্গে তিনি দেউচা-পচামি কয়লা খনি প্রকল্প, জঙ্গলসুন্দরী কর্মনগরী এবং রঘুনাথপুরে ৭২ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, এই প্রকল্পগুলি সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হলে আগামী ১০০ বছর বাংলায় বিদ্যুতের সমস্যা থাকবে না, পাশাপাশি বিদ্যুতের খরচও কমবে।

কৃষিজীবী মানুষ ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের জন্য বাজার ও বাণিজ্যের নতুন দিশা দেখানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। সব মিলিয়ে ‘প্রতিজ্ঞা’ ইস্তাহারকে সামনে রেখে ভোটের ময়দানে আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল কংগ্রেস। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই ইস্তাহারই হতে পারে আসন্ন নির্বাচনে তৃণমূলের জয়ের অন্যতম হাতিয়ার।






