
#রায়গঞ্জ: ভোটের আবহে এক উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে রায়গঞ্জে। রায়গঞ্জ গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল-এর অন্তর্গত ব্লাড সেন্টারে ভয়াবহ রক্ত সংকট দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরেই রক্তের জোগান কমছিল, তবে ভোট ঘোষণা হতেই পরিস্থিতি আরও সংকটজনক হয়ে পড়ে। বর্তমানে কার্যত শূন্য অবস্থায় পৌঁছেছে ব্লাড সেন্টারের রক্তভাণ্ডার। একই ছবি ধরা পড়েছে মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল-এও।

এই পরিস্থিতিতে চরম সমস্যার মুখে পড়েছেন রোগী ও তাঁদের পরিজনরা। প্রয়োজনীয় রক্ত না পেয়ে বাধ্য হয়ে একই গ্রুপের রক্তদাতার সন্ধানে হন্যে হয়ে ঘুরতে হচ্ছে তাঁদের। অনেক ক্ষেত্রেই ব্যক্তিগত উদ্যোগে ডোনার জোগাড় করেই রোগীর প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা চলছে।

ইটাহারের বাসিন্দা রনবীর অধিকারী ও রাধিকাপুরের নমল রায় জানান, রক্তের অভাবে তাঁরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। দিনরাত ছুটেও প্রয়োজনীয় রক্তের ব্যবস্থা করতে না পেরে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তাঁরা। তাঁদের অভিযোগ, হাসপাতালের ব্লাড সেন্টারে পর্যাপ্ত রক্ত না থাকায় চিকিৎসা পরিষেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে শহরের সমাজকর্মী কৌশিক ভট্টাচার্য ব্লাড সেন্টারের আধিকারিকদের উদ্দেশ্যে এক বিশেষ আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, সাধারণ মানুষের স্বেচ্ছায় রক্তদানই ব্লাড সেন্টারকে সচল রাখে। কিন্তু রক্তদাতা সচেতনতা বৃদ্ধিতে ব্লাড সেন্টারের তেমন সক্রিয় ভূমিকা চোখে পড়ে না।

তিনি আরও বলেন, জেলার বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দিনরাত পরিশ্রম করে রক্তদান শিবির আয়োজন করে এবং সেই শিবির থেকেই মূলত রক্ত সংগ্রহ হয়। অথচ ব্লাড সেন্টার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এই সংগঠনগুলির নিয়মিত আলোচনা বা সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। বহুবার অনুরোধ করা হলেও মাসিক বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।

কৌশিকবাবুর দাবি, ব্লাড সেন্টারকে রক্তপূর্ণ রাখতে হলে নিয়মিতভাবে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলির সঙ্গে বৈঠক ও সমন্বয় জরুরি। এতে যেমন সম্পর্ক উন্নত হবে, তেমনি রক্তদান শিবিরের সংখ্যাও বাড়বে এবং সংকট অনেকটাই কমবে।

ভোটের আবহে প্রশাসনিক ব্যস্ততার মাঝেই এই রক্ত সংকট নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে বলেই আশঙ্কা সংশ্লিষ্ট মহলের।




