#মালবাজার: ডুয়ার্সের নাগরাকাটা বিধানসভা আসন এবার তৃণমূল কংগ্রেসের দখলেই আসবে। এমনটাই আশা করছেন নাগরাকাটা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তথা তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা সঞ্জয় কুজুর। ডুয়ার্সের মালনদীর পূর্ব প্রান্ত থেকে বানারহাট ব্লকের রেতি নদীর পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত চা বাগান বনাঞ্চল ও গ্রামাঞ্চল ঘেরা নাগরাকাটা বিধানসভা কেন্দ্র।

তপশিলি উপজাতি সংরক্ষিত এই এলাকা এক সময় সিপিএমের লাল দুর্গ বলে পরিচিত ছিল। সিপিএমের সেই রমরমা আর নেই। মাটিয়ালী, নাগরাকাটা ও বানারহাট ব্লকের কিছু অংশ নিয়ে নাগরাকাটা বিধানসভা আসন। মোট ১১ টি গ্রাম পঞ্চায়েত ও দুটি পঞ্চায়েত সমিতি নিয়ে এই বিধানসভা আসনের এলাকা। মোট ভোটার প্রায় সোয়া দুই লাখ।

গ্রাম পঞ্চায়েত গুলির মধ্যে বেশিরভাগ তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে রয়েছে এবং নাগরাকাটা ও মেটালি পঞ্চায়েত সমিতি তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে রয়েছে। গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতি তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে থাকা সত্ত্বেও গত বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকে বিজয়ী হয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী পুনা ভেংরা। গত বিধানসভা নির্বাচনের পর পাঁচটি বছর প্রায় পেরিয়ে গেছে। জলঢাকা, নেওরা ও ডায়না দিয়ে অনেক জল গড়িয়ে গেছে পরিবর্তন হয়েছে অনেক কিছুর।

আবার বিধানসভার নির্বাচন দোরগোড়ায়। এক অথবা দুই দিনের মধ্যেই নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষিত হবে। এমত অবস্থায় কোন দলই এখন পর্যন্ত তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। তবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের পক্ষে প্রচার শুরু করে দিয়েছেন। প্রচারের মাঝেই এবার তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা এবং পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সঞ্জয় কুজুর অত্যন্ত দৃঢ় প্রত্যয়ী এই আসন দখলে আনবার। নিজের বাড়িতে বসে সাক্ষাৎকারে জানালেন তিনি।

তিনি বলেন, এবার নাগরাকাটা আসন আমরা আমাদের দখলে আনবই। গত ৫ই অক্টোবর ভয়ংকর বন্যার পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা আমাদের দলের নেত্রী পরপর দুবার নাগরাকাটা এসেছেন। অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মোকাবিলার সহযোগিতা করেছেন। তার একটা প্রভাব রয়েছে, তাছাড়া কন্যাশ্রী, লক্ষীর ভান্ডার এবং সম্প্রতি রাজ্যের যুবক-যুবতীদের জন্যে যে ভাতার ব্যবস্থা করেছেন তার একটা প্রভাব পড়বেই।

তাছাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতগুলি আমাদের দখলে রয়েছে। গত নির্বাচনে বিজেপি অনেক মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এগুলো মানুষ বুঝতে পারছে। গোটা ব্লক জুড়ে যথেষ্ট কাজ হয়েছে। কর্মীরা কাজ করছেন মানুষের পাশে থেকে। তাই এবার আমরা অত্যন্ত প্রত্যয়ী এই আসন দখলে আনবার এবং অবশ্য ভাবেই আনবো। তৃণমূল কংগ্রেসের এই নেতার আশা কতখানি ফলবতী হয় তা দেখবার জন্য আমাদের এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।






