
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ স্মার্টফোনের মোহে ডুবে থাকা যুগে, যখন বই পড়া যেন বিলুপ্তপ্রায় অভ্যাসে পরিণত হচ্ছে, তখন রায়গঞ্জ শহরের মোহনবাটি এলাকার এক কোণে বইয়ের গন্ধে এখনও ভরে ওঠে বাতাস। সেখানে রোজ জমে ওঠে পাঠের আসর— সোমশুভ্র স্মৃতি স্ট্রিট লাইব্রেরি।

বিগত ২০১৯ সালের ১২ অক্টোবর দূরারোগ্য ক্যানসারে অকালে প্রাণ হারান রায়গঞ্জের তরুণ মেধাবী ছাত্র সোমশুভ্র অধিকারী, যিনি ‘চার্লি’ নামে বেশি পরিচিত ছিলেন। বন্ধুরা তাঁর স্মৃতিকে অমর করে রাখতে ২০২০ সালে তাঁর মৃত্যুর এক বছর পর গড়ে তোলেন উত্তরবঙ্গের প্রথম স্ট্রিট লাইব্রেরি। আজ সেই লাইব্রেরি রায়গঞ্জের এক অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

লাইব্রেরির পরিচালন কমিটির সদস্য অভ্রনীল রায় জানান, “২০২২ সালে জনা দশেক পাঠক নিয়ে আমরা এই লাইব্রেরির পথ চলা শুরু করি। মনোসিজ কর এবং সোমশুভ্রের বাবা সুব্রত অধিকারী মিলেই মূল পরিকল্পনাটা করেন। এখন আমরা দেখি, দিনে দিনে পাঠকের সংখ্যা বেড়েই চলেছে, এতে আমরা ভীষণ আশাবাদী।”

বর্তমানে এই স্ট্রিট লাইব্রেরির সদস্য সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়েছে, বইয়ের সংখ্যা ৫০০-র কাছাকাছি। সুব্রত অধিকারী বলেন, “প্রতি বছর আমরা সেরা পাঠকদের পুরস্কৃত করি। আশ্চর্যের বিষয়, তাদের অধিকাংশই কমবয়সী ছেলেমেয়ে। এতে মনে হয় সোমশুভ্রের মতোই তারা বই ভালোবাসে। ওর স্মৃতিতে এই পড়ার উৎসাহটাকেই আমি ধরে রাখতে চাই।”

তবে জনপ্রিয়তার সঙ্গে বেড়েছে কিছু সমস্যা। অনেকে বই নিয়ে গিয়ে ফেরত দিচ্ছেন না নির্দিষ্ট সময়ে। তাই আগামী দিনে সিসিটিভি বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান অভ্রনীল। তিনি আরও বলেন, “প্রথম দুই বছর আমরা এই দিনটিতে গান, কবিতা আর গল্পের আসর করেছি— ছিল অনেক অশ্রুভেজা হাসি। এখন কিছু কারণে পারছি না, কিন্তু আগামী বছর আবার বড় করে কিছু করার ইচ্ছে আছে— লাইব্রেরিটাকে আরও বড় করা, যেন আরও বেশি মানুষ ওর ছোঁয়া পায়।”

কালও তারা উদযাপন করবেন সোমশুভ্রের মৃত্যুদিবস। তবে তাদের ভাষায়, এটি মৃত্যুর নয়— স্মৃতির উৎসব। “কারণ, ওর মৃত্যু হয়নি,” বলেন অভ্রনীল। “চার্লি আজও বেঁচে আছে আমাদের মাঝে— পাতার শব্দে, বাতাসের গন্ধে, হৃদয়ের প্রতিটি কোণে।”








