Explore

Search

August 10, 2026 5:19 pm

IAS Coaching

ছাত্র বিক্ষোভে উত্তাল বিদ্যুৎ দপ্তরের অফিস, মিটবে কি সমস্যা? প্রশ্ন উঠছে এলাকায়

#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ শুক্রবার দুপুরে অস্বাভাবিক দৃশ্য দেখা গেল রায়গঞ্জে। স্কুল কামাই করে রাস্তায় নামল বামুনগ্রাম হাসিমুদ্দিন হাই স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা। সঙ্গে ছিলেন অভিভাবকেরাও। বেহাল বিদ্যুৎ পরিষেবার বিরুদ্ধে স্লোগান তুলতে তুলতে তাঁরা পৌঁছে যান বিদ্যুৎ দপ্তরের অফিসে। মুহূর্তের মধ্যেই অফিস চত্বর উত্তাল হয়ে ওঠে ছাত্র-ছাত্রীদের বিক্ষোভে।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই কম ভোল্টেজ এবং ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে নাজেহাল স্কুলটি। ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনা যেমন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনই সমস্যায় পড়ছেন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ। বারবার অভিযোগ জানানোর পরও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বিদ্যুৎ দপ্তর—এমনই অভিযোগ আন্দোলনকারীদের।

এই অবস্থায় পড়ুয়ারা ও তাদের অভিভাবকেরা গণ-ডেপুটেশনের ডাক দেন। এদিন দুপুরে WBSEDCL-এর রায়গঞ্জ কাস্টমার কেয়ার সেন্টারের স্টেশন ম্যানেজারের কাছে লিখিতভাবে দাবি পেশ করা হয় বলে জানিয়েছে তাঁরা।

স্কুলের ছাত্রী মনসুরা খাতুনের কথায়, “আমরা ক্লাসে ঠিক মতো পড়াশোনা করতে পারি না। ফ্যান চলে না, আলো নেই। পরীক্ষা আসছে, তবুও কোনো সমাধান হচ্ছে না।” সহপাঠী ইসমিত আলী জানান, “বিদ্যুৎ থাকলেও ভোল্টেজ এত কম যে কম্পিউটার ল্যাব, প্রোজেক্টর কিছুই চালানো যায় না।” সামিম আখতার ও ডারেনা খাতুন স্পষ্ট ভাষায় জানায়, এভাবে আর পড়াশোনা চালানো সম্ভব নয়।

অভিভাবক নজরুল ইসলাম বলেন, “বারবার অভিযোগ জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। এবার সন্তানদের পাশে দাঁড়িয়েই আন্দোলনে নামতে হবে।” অপরদিকে মুনমুন ঠাকুরের আক্ষেপ, “শিক্ষা আলো ছড়ায়। কিন্তু বিদ্যুতের অভাবে সেই আলোই আজ অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে।”

এদিন বিদ্যুৎ দপ্তরের একাধিক আধিকারিকের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও, কারও কোনো প্রত্তুত্তর পাওয়া যায় নি। তবে অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে, শিগগিরই দপ্তরের আধিকারিকেরা জমি সমস্যা সমাধানে পথে নামবেন। এখন প্রশ্ন, প্রশাসনের আশ্বাস কতটা কার্যকর হয়, আর বামুনগ্রামের পড়ুয়াদের সমস্যার স্থায়ী সমাধান আদৌ হয় কি না—সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা এলাকা।

Advertisement
Live Cricket Score
upskillninja