
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে রবিবার সকালে রায়গঞ্জ বনবিভাগের উদ্যোগে শুরু হল এবছরের কুলিকের পরিযায়ী পাখির জনসংখ্যা অনুমান কাজ বা পাখি গণনা। রায়গঞ্জ কুলিক পাখিরালয় ছাড়াও ২ দিনের এই কর্মসূচিতে রায়গঞ্জ শহরের বিভিন্ন অংশের ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পাখিগুলোকেও গণনা করা হবে। এদিনের পাখি গণনায় অংশ নেয় বনবিভাগের পাশাপাশি রায়গঞ্জের বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, স্কুল ও কলেজের পড়ুয়ারাও। পাখির সংখ্যা অনেকটা বেড়েছে বলে দাবি গণনাকারীদের।

রায়গঞ্জ বন বিভাগের আধিকারিক ভূপেন বিশ্বকর্মা বলেন, প্রতি বছর এই সময়টাতে পরিযায়ী পাখিদের ভিড় জমে রায়গঞ্জ কুলিক পাখিরালয় ও সন্নিহিত এলাকায়। এদের সংখ্যাও গণনা করা হয়। এবছর ৫ টি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এবং একটি স্কুলের পড়ুয়াদের নিয়ে ২ দিনের এই গণনা চলবে। প্রথম দিন পাখিরালয়ের বাইরে গননা হয় এবং ২য় দিনে কুলিক পাখিরালয়ের ভেতরে পাখি গণনা করা হবে। তিনি জানান, বিগত বছর থেকে এখানে গ্লসি আইবিস পাখির সংখ্যা বাড়ছে। রায়গঞ্জ বন আধিকারিক আরও বলেন, দুদিনের এই গণনা চলবে ১৫ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। গাছ পিছু পাখি গুণে মোট পাখি গণনা করা হবে।

অতিরিক্ত বন আধিকারিক সরোজ ভূজেল বলেন, পড়ুয়াদের মধ্যে পরিযায়ী পাখিদের প্রতি আকর্ষণ বৃদ্ধি করতে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা গুলোর পাশাপাশি পড়ুয়াদেরকে পাশে নেয় রায়গঞ্জ বনবিভাগ। এতে রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় সহ বেসরকারি স্কুলের পড়ুয়ারা গাছের নাম জেনে পাখির ডাক শুনে পাখি চিনেছে। পাশাপাশি, গাছে পাখির বাসার সংখ্যা গুনে মোট পাখি গণনাও করেছে। পরিযায়ী পাখিদের হাতের নাগালে পেয়ে উচ্ছ্বসিত হয় পড়ুয়ারাও।

উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের কুলিক পাখিরালয় হল এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শামুকখোল পাখির পাখিরালয়। এখানে ওপেন বিল স্টক, নাইট হেরন, কর্মোরেন্ট, এগরেটের মত পরিযায়ী পাখিদের সাথে প্রচুর দেশীয় পাখির ভিড় দেখা যায়।

এবছরের পাখি গননায় হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ার্স এন্ড ট্রেকার্স এসোসিয়েশন, উত্তর দিনাজপুর পিপলস ফর এ্যানিম্যালস, রায়গঞ্জ পিপলস ফর এ্যানিম্যালস, নর্থ বেঙ্গল ফটোগ্রাফিক ক্লাবের স্বেচ্ছাসেবকেরা অংশ নেয় বলে জানালেন রায়গঞ্জ কুলিকের রেঞ্জার সৌভিক ঝা। পাখি প্রেমী বাসুদেব চক্রবর্তী বলেন, এবারের আবহাওয়া অনুকূল থাকায় পাখিদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।








