Explore

Search

June 25, 2026 8:08 pm

IAS Coaching

হাজিপাড়ার মাঠে ইতিহাসের সাক্ষী, এবার ট্রফি জিতল লক্ষনীয়া মহামেডান

#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ হাজিপাড়ার মাঠ যেন ইতিহাসের আঙিনা। যে মাঠ একসময় বিদ্যুতের আলো এনেছিল গ্রামে, সেই মাঠেই এবছর ফুটবলের ফাইনালে ঝলমল করল লক্ষনীয়া মহামেডান। রবিবার সন্ধ্যায় চূড়ান্ত লড়াইয়ে তারা ৩-০ গোলে হারাল কে ওয়াই এম টেকনোলজি দলকে। অসাধারণ খেলায় দর্শক মাতান লক্ষনীয়ার মিলন মূর্মূ, যিনি ফাইনালের ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হন।

ফাইনাল ম্যাচের উদ্বোধন ও পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে হাজির ছিলেন রাজ্যের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সত্যজিৎ বর্মন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সুশীল গোস্বামী, টাউন ক্লাবের সম্পাদক অরিজিৎ ঘোষ, ডিএসএ’র প্রতিনিধি রাজা চন্দ, সমাজকর্মী সুব্রত সরকার সহ বহু গণ্যমান্য ব্যক্তি।

এদিনের অনুষ্ঠানে বিশেষ সংবর্ধনা দেওয়া হয় নন্দঝাড় আদিবাসী হাই স্কুলের মেয়েদের ফুটবল দলের কোচ চন্দন পালকে। সম্প্রতি তাঁর প্রশিক্ষণে দলটি সুব্রত কাপে দেশের মধ্যে রানারআপ হয়েছে।

গ্রামের এই ফুটবল মাঠের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক অনন্য ইতিহাস। সমাজকর্মী সুব্রত সরকার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, “২০০০ সালে যখন এখানে আসি, তখন গোটা গ্রাম বিদ্যুৎবিহীন। কুপি আর হ্যারিকেনের আলোই ভরসা। সেই বছরই অরন্ধন দিবস পালন করে গ্রামবাসীদের আন্দোলনে সামিল করি। ৫ শতাধিক স্বাক্ষর সহ চিঠি পাঠাই রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রী পর্যন্ত। অবশেষে রাজীব গান্ধী বিদ্যুৎ যোজনায় আলো আসে গ্রামে। স্বাধীনতার এত বছর পর সেই আলোয় গ্রামবাসীরা নতুন স্বাধীনতার স্বাদ পান।”

তিনি আরও জানান, ফুটবল প্রতিযোগিতা ঘিরে এখানকার মানুষ একসূতোয় বাঁধা। কোনোদিন মঞ্চ ছিল না, বাঁশ দিয়ে তৈরি হতো মাচা। পরবর্তীতে ডঃ শ্রীকুমার মুখার্জীর উদ্যোগে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন পর্ষদ থেকে পাকা মঞ্চ তৈরি হয়। ২০১৫ সালের ১৫ই আগস্ট এই মাঠেই একসাথে ১৫টি লালবাতির গাড়ি আসায় গ্রামটির নাম হয়ে যায় “লালবাতি গ্রাম।” এক মাসব্যাপী এই প্রতিযোগিতা ঘিরে মেলা বসে, আয়োজিত হয় রক্তদান শিবির, স্বাস্থ্য শিবির ও নানান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় ৪৫ বছর আগে হাজি সাহেব এই জমি ফুটবল খেলার জন্য দান করেন। সেই থেকে নাম হয় হাজিপাড়া মাঠ। পরে বন্দর নিবাসী আগরওয়াল পরিবারও জমি দান করে মাঠ বড় করে দেন। হাজি সাহেবের দান করা ট্রফি ও শিল্ড আজও এই প্রতিযোগিতার গৌরব বহন করে আসছে।

হাজারো দর্শকের উল্লাসে শেষ হলো এবছরের ফাইনাল। জয়ী লক্ষনীয়া মহামেডান দল যেমন গর্বিত, তেমনি হাজিপাড়ার মাঠ আবারও প্রমাণ করল, খেলাধুলো কেবল বিনোদন নয়, গ্রাম সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করার এক মহৎ মাধ্যম।

Advertisement
Live Cricket Score
upskillninja