#মালবাজার: আমরা যারা বর্তমান প্রজন্মের বাঙালি এবং সাহিত্য পাঠের অভ্যাস যাদের কাছে আছে তাদের কাছে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় একটি অত্যান্ত পরিচিত এবং আদরের নাম। যার কলম দিয়েই একদা রচিত হয়েছে দূরবীন, মানবজমিন, ঘুনপোকার মতো উপন্যাস। প্রায় অষ্টআশি ছুই ছুই বাংলার এই সাহিত্যিকের শৈশব একটা সময় কেটে গেছে ডুয়ার্সের মালবাজার শহর। তখন পরাধীন ভারত, স্বাধীনতা আন্দোলনের তীব্রতা চলছে চল্লিশ দশকের মাঝামাঝি, সেই সময় মালবাজার রেল স্টেশন ছিল জমজমাট। স্টেশনকে কেন্দ্র করে আশেপাশে তৈরি হয়েছিল রেল কোয়ার্টার।

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় এর বাবা রেল দপ্তরের আধিকারিক ছিলেন। স্টেশন থেকে ঢিলছোড়া দুরত্বে অফিসার কোয়াটারে থাকতেন শীর্ষেন্দু বাবুর বাবা। পরিবারের সঙ্গে এই কোয়াটারে পরিবারের সঙ্গে শৈশব কেটে গেছে বাংলার এই প্রখ্যাত সাহিত্যিকের। ২০১৭ সালে প্রখ্যাত এই সাহিত্যিক মালবাজার শহরে এসেছিলেন বইমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করতে। উদ্বোধন পর্বে দ্বিতীয় দিনে এক পড়ন্ত বিকেলে আমাকে ও এক সাংবাদিক বিদেশ বসুকে নিয়ে নিয়ে উনি হাজির হন প্রাচীন এই রেল কোয়াটারের সামনে।

খানিকক্ষণ অবাক বিষয়ের বন্ধ কোয়াটারের দিকে তাকিয়ে স্মৃতি মেদুরতায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন। মানবশুন্য সেই কোয়াটারের সামনে দাঁড়িয়ে প্রবাসী বোনের কাছে টেলিফোনে যোগাযোগ করেন। তাকেই তিনি শৈশবের স্মৃতি সেই কোয়াটার, সেই লিচু গাছ বর্ণনা করতে থাকেন। পরে নিজেই জানালেন এই কোয়াটারে বাবা ও পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। সামনে ছিল চা বাগান। এখন যেখানে গড়ে উঠেছে বিদ্যুৎ দপ্তরের অফিস ও কলোনি। সেখানে ছিল চা বাগান। মহিলা শ্রমিকরা পাতা তুলতেন সেই সব স্মৃতি রোমন্থন করেন।

এহেন এক বাংলা সাহিত্যের স্মৃতি বিজড়িত রেল কোয়াটারের বর্তমান অবস্থা জরাজীর্ণ। সামনে যেখানে ছিল ফুলের বাগান সেখানে এখন আগাছায় ভর্তি। কোয়াটারের দরজায় তালা ঝুলছে। প্রায় শতাব্দি প্রাচীন এই কোয়াটার সংরক্ষণের দাবি উঠেছে শহরে। শহরের বুদ্ধিজীবী ও সংস্কৃতিবান মানুষেরা এই কোয়াটার সংরক্ষণ করার দাবি তুলেছেন। শহরের বিশিষ্ট সাংবাদিক ও লেখক সব্যসাচী ঘোষ বলেন, এজাতীয় ভবন গুলোকে সংরক্ষণ করা দরকার। বর্তমান এবং আগামী প্রজন্ম তার থেকে অনেক তথ্য পেতে পারেন।

গত কিছুদিন আগে জলপাইগুড়ি সাংসদ ডা: জয়ন্ত রায় নিউ মাল স্টেশনে এসেছিলেন রেলের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনে। সেখানে তার কাছে এই কোয়াটার এবং তার গুরুত্ব বর্ণনা করে সংরক্ষণের দাবি করেন স্থানীয় সাংবাদিক ও বাসিন্দারা। সাংসদ তৎক্ষণাৎ রেলের আধিকারিকদের নির্দেশ দেন বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার।

অনেকে আবার জানিয়েছেন, মাল পৌরসভা উদ্যোগ নিয়ে রেলের কাছে প্রস্তাব দিয়ে এই ভবনটি সংরক্ষণ করতে পারেন। তাহলে পর্যটন কেন্দ্র মালবাজার শহরের নতুন একটি পালক বিকশিত হবে। রেলপথ শুধুমাত্র জনপদের সুচনাই করেনি সেই সাথে রেখে গেছে অনেক ইতিহাস অনেক স্মৃতি। সংরক্ষণ হোক সেই স্মৃতি এটাই চায় সবাই।




