
#কালিম্পংঃ টানা বৃষ্টির জেরে বড়সড় বিপর্যয় ঘটল দেশের অন্যতম গর্বের পরিকাঠামো—সেবক-রংপো রেল প্রকল্পে। মঙ্গলবার ভোররাতের প্রবল বর্ষণের ফলে ধসে পড়ে নির্মীয়মাণ ৭ নম্বর টানেলের এডিট স্লোপ প্রোটেকশন। এই টানেলের মধ্যেই গড়ে উঠছিল দেশের প্রথম ভূগর্ভস্থ রেলস্টেশন ‘তিস্তা বাজার’। হঠাৎই হুড়মুড়িয়ে পাহাড়ি মাটি ও পাথরের চাঙড় নেমে এসে ভেঙে দেয় সুরক্ষা দেওয়াল। চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।

টানেল টি-৭, যা প্রকল্পের অন্যতম মাইলস্টোন, তার দৈর্ঘ্য ৩০৮২ মিটার। এই টানেলের ভিতরেই ৬৫০ মিটার প্রশস্ত গুহায় গড়ে তোলা হচ্ছিল দেশের প্রথম ভূগর্ভস্থ রেলস্টেশন। একক প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি ছয়টি ক্রস প্যাসেজসহ আধুনিক বায়ু চলাচল ও যাত্রী সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকছে এই স্টেশনে। অথচ প্রকল্পের এই অবকাঠামোই এখন প্রশ্নের মুখে—এই ধস স্থায়িত্ব ও প্রকৌশল পরিকল্পনা নিয়েই উঠতে শুরু করেছে নানা প্রশ্ন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে,এদিন ভোর থেকেই কালিম্পং জেলার পাহাড়ি অঞ্চলজুড়ে টানা বৃষ্টি হচ্ছিল। ভারী বৃষ্টির চাপেই মাটি আলগা হয়ে টানেলের একাংশে ধস নামে। তবে সৌভাগ্যবশত, এই দুর্ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর মেলেনি। রেল সূত্রে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যেই প্রকল্পস্থলে পৌঁছেছে ইঞ্জিনিয়ারিং ও সেফটি টিম। দ্রুত শুরু হয়েছে ধস সরানোর কাজ ও মেরামতি। রেল আধিকারিকদের দাবি, অতিবৃষ্টির কারণেই এই ধস, এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সবরকম উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, সেবক-রংপো রেল প্রকল্প ভারতীয় রেলের অন্যতম উচ্চাভিলাষী উদ্যোগ, যা উত্তরবঙ্গ ও সিকিমের মধ্যে রেল যোগাযোগ স্থাপন করবে। অতীতে এই প্রকল্পকে ঘিরে যেমন আশা জেগেছিল, তেমনি প্রকৃতি ও ভূগর্ভস্থ নির্মাণের চ্যালেঞ্জ বারবার বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দা থেকে পরিবহণ বিশেষজ্ঞ, সকলেই এখন এই রেলপথের বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।






