
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ “আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান”—রাজ্য সরকারের এই বিশেষ কর্মসূচিতে যখন গ্রামের অসংখ্য মানুষ সরকারি পরিষেবা নিতে ভিড় করছেন, তখন অনেকেই পড়তে বা লিখতে না পারার কারণে পড়ে যাচ্ছেন সমস্যায়। সেই সময় তাঁদের পাশে দাঁড়াল রায়গঞ্জ ভূপালচন্দ্র বিদ্যাপীঠের একাদশ শ্রেণির ছয়জন কন্যাশ্রী ছাত্রী।

সোমবার দুপুরে, বীরঘই বড় পিপলান প্রাইমারি স্কুলে অনুষ্ঠিত হয় দুয়ারে সরকার ক্যাম্প। এখানে এলাকার বহু মানুষ এসেছিলেন স্বাস্থ্যসাথী কার্ড, খাজনার সার্টিফিকেট, জাতিগত পরিচয়পত্র ইত্যাদি প্রয়োজনীয় পরিষেবা নিতে। কিন্তু দেখা যায়, বহু প্রবীণ কিংবা নিরক্ষর মানুষ ফর্ম পূরণ বা স্বাক্ষর করতে পারছেন না।

এই সময় উপস্থিত হন কন্যাশ্রী বাহিনীর ছয় সদস্যা—পূর্ণিমা বর্মন, ভূমিকা পাহান, ববি দেবশর্মা, শরবন্তী ঘোষ, রূপা দেবশর্মা এবং অর্পিতা ঘোষ। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন স্কুলের শিক্ষিকা অনামিকা রায়। তাঁরা প্রত্যেকে নিজেদের হাতে তুলে নেন কলম, গ্রামবাসীদের পাশে দাঁড়িয়ে ফর্ম পূরণে সাহায্য করতে থাকেন।

গ্রামবাসীরা আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, মেয়েগুলো না থাকলে আমাদের বেশ অসুবিধা হত। ওরা না থাকলে জানি না কীভাবে কাজ করতাম। ছাত্রীদের একজন, পূর্ণিমা বর্মন বলে, “আমরা শুধু একটু সহযোগিতা করেছি। এটা আমাদের কর্তব্য। সমাজের জন্য কিছু করতে পারলে ভালো লাগে।”

ভূপালচন্দ্র বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক উৎপল গোস্বামী বলেন, “আমাদের ছাত্রীদের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। আমরা গর্বিত যে তারা শুধু পড়াশোনাতেই নয়, সামাজিক দায়িত্ববোধেও এতটা সচেতন।” স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সোনামণি রায় বলেন, এই ঘটনা ফের একবার প্রমাণ করল, তরুণ প্রজন্মের হাত ধরেই সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব। কলম হাতে সহযোগিতার যে বার্তা কন্যাশ্রী বাহিনীর মেয়েরা দিল, তা নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে সকলের জন্য।






