
#মালবাজার: গত কয়েক বছর ধরে বেহাল অবস্থায় রয়েছে মাল ব্লকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মালবাজার থেকে বড়দিঘি পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার রাজ্য সড়ক। সড়ক নির্মাণের দাবিতে গত এক বছরে দলমত নির্বিশেষে স্থানীয় লোকজন বিভিন্ন সময় পথ অবরোধ করেছেন। রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। বারবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু হয়নি।

জানা গেছে, রাস্তা নির্মাণের জন্য তেরো কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। সম্প্রতি রাস্তা নির্মাণের জন্য পূর্ত দপ্তর টেন্ডার আহবান করেন। নিয়ম মত টেন্ডারে একাধিক সংস্থা অংশগ্রহণ করে। পূর্ত দপ্তর থেকে হঠাৎ করেই ঘোষণা হয় টেন্ডার বাতিল করা হয়েছে। বাসিন্দাদের মধ্যে রাস্তা নির্মাণের যে আশার আলো সঞ্চারিত হয়েছিল তা সূর্যাস্তের মতই অন্ধকারে বিলীন হয়ে যায়।
রাস্তা নির্মাণ বিশবাঁও জলে তলিয়ে যায়। এটাই ক্ষুব্ধ মাল ব্লকের তেশিমলা, কুমলাই এলাকার কয়েক হাজার মানুষ।

রবিবার তেশিমলা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার মিঠু মোর এলাকায় রাস্তার জমা জলে ধান লাগিয়ে প্রতিবাদ জানালো স্থানীয় বাসিন্দারা। মোস্তফা প্রধান, জয়নুল হক, জানান, এই রাস্তা ধরে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ, স্কুলের পড়ুয়া, হাসপাতালের রোগী যাতায়াত করে। রাস্তা নির্মানের জন্য বেশ কয়েকবার আন্দোলন হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ হয়েছে। কিন্তু, অজানা কারনে রাস্তার কাজ শুরু হচ্ছে না। কেন হচ্ছে না জানিনা।

মিঠু মোরে রীতিমতো সভা করে তেশিমলা গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরোধী দলনেতা মোস্তফা হোসেন বলেন, তৃনমুল কংগ্রেসের কাজ হচ্ছে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া। এক্ষেত্রে সেই হচ্ছে। মানুষ আর কতদিন মিথ্যা শুনবে। এজন্য ধান লাগিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে। জানাগেছে, মালবাজার থেকে তেশিমলা, বড়দিঘী, লাটাগুড়ি গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক চলে গেছে জেলা শহর জলপাইগুড়ি অভিমুখে।

গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের বাজার থেকে বড়দীঘি পর্যন্ত ৯ কিমি রাস্তা অত্যন্ত বেহাল অবস্থায় রয়েছে। রাস্তার ব্ল্যাক টপ উঠে গেছে, মাঝেমধ্যে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। বর্ষার জল জমে সেই রাস্তা হয়ে উঠেছে মরণফাঁদ। মোটরসাইকেল, টোটো মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। দুর্ঘটনায় জখম হয়েছে বেশ কয়েকজন। এজন্যে রাস্তা নির্মাণের দাবিতে বারবার আন্দোলন হলেও এক অজানা কারণে থমকে গেছে রাস্তা নির্মাণের কাজ। এতেই ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ।






