
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ শারদোৎসব যতই জাঁকজমকপূর্ণ হোক না কেন, তার নেপথ্যে থাকা কুমোরটুলির মৃৎশিল্পীদের অবস্থা আজও করুণ। রাজ্য সরকারের পুজোর অনুদান এবছর বাড়িয়ে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা করা হলেও, সেই অনুদান বা অর্থের সুফল পৌঁছায় না প্রতিমাশিল্পীদের হাতে, এমনই অভিযোগ তুলে মুখ খুলেছেন রায়গঞ্জ কুমোরটুলির বহু বর্ষীয়ান শিল্পী।

বর্ষীয়ান মৃৎশিল্পী ভানু পাল বলেন, “বছরের পর বছর ধরে মাটি কেটে, রোদে জলে ভিজে প্রতিমা গড়ি। অথচ আজও ন্যায্য দাম পাই না। বরং অনেক সময় প্রতিমার মূল্য ঠিক করার আগেই আমাদের শ্রমকে তুচ্ছ করা হয়।” আর এক মৃৎশিল্পী নারায়ণ পাল ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “অনেক ক্লাবই অনুদান পায় ঠিকই, কিন্তু তার থেকে আমরা কিছুই পাই না। বরং প্রতিমার দাম নিয়ে দরাদরি করা হয়। শিল্পের মর্যাদা রক্ষা করার কেউ নেই।”

তবে পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার করেছেন রায়গঞ্জ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অতনু বন্ধু লাহিড়ী। তিনি বলেন, “শিল্পীরা যদি প্রতিমা না তৈরি করেন, তাহলে পুজো হয় না। তাঁদের সম্মান ও প্রাপ্য পাওনা নিশ্চিত করতে আমরা উদ্যোগ নেব। আগামী বছর থেকে ক্লাবগুলোর সঙ্গে আলোচনায় শিল্পীদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা হবে।” পুজোর আনন্দের উৎসবের মাঝে কুমোরটুলির এই আর্তি প্রশাসন ও সমাজের চিন্তায় জায়গা করে নেয় কি না, এখন সেটাই দেখার।







