Explore

Search

July 9, 2026 6:14 pm

IAS Coaching

নমো ভারত র‍্যাপিড রেলে জুড়বে উত্তরবঙ্গ, দাবি রাজুর

#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ শুক্রবার দুপুরে শিলিগুড়িকে ঘিরে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের জন্য অনুরোধ জানালেন দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা। যার মধ্যে রয়েছে শিলিগুড়িকে আশেপাশের অঞ্চলের সঙ্গে সংযুক্ত করে নমো ভারত র‍্যাপিড রেল ব্যবস্থা চালু করা, শিলিগুড়িতে মেট্রো রেল প্রকল্প স্থাপন এবং সিলিগুড়ি-তরাই অঞ্চলে একটি রেল কোচ কারখানা গড়ে তোলা।

এদিন তিনি বলেন, শিলিগুড়ি উত্তর–পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত। এটি দার্জিলিং, সিকিম ও ডুয়ার্সের মতো পর্যটন কেন্দ্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট হাব এবং বাণিজ্য কেন্দ্র, যা বিহার, সিকিম, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গকে সংযুক্ত করে। সেই সঙ্গে এটি ভুটান, নেপাল এবং বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্তও ভাগ করে।আমি মাননীয় মন্ত্রীকে জানাই যে, কৌশলগত দিক থেকে এত গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও, শিলিগুড়িতে পরিবহণ পরিকাঠামোর অভাব তার সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করছে।

এই কারণে আমি নিম্নলিখিত রুটে নমো ভারত র‍্যাপিড রেল ব্যবস্থা চালুর অনুরোধ জানিয়েছি। এতে

১. শিলিগুড়ি থেকে মালদা — (বাগডোগরা, নকশালবাড়ি, খোরিবাড়ি, বিধাননগর, চোপড়া, ইসলামপুর, রায়গঞ্জ হয়ে)
২. শিলিগুড়ি থেকে হাসিমারা — (সেবক, বাগরাকোট, ওদলাবাড়ি, মালবাজার, চালসা, নাগরাকাটা, বানারহাট, বীরপাড়া হয়ে) এবং
৩. ভবিষ্যতে — সেবক-রংপো রেললাইন চালু হলে সিলিগুড়ি থেকে রংপো পর্যন্ত সংযোগ।

তাঁর কথায়, নমো ভারত র‍্যাপিড রেল একটি আধা-উচ্চগতির আন্তঃশহর পরিষেবা যা ১০০ থেকে ২৫০ কিমি দূরত্বের জন্য উপযুক্ত। এটি দ্রুত, সুরক্ষিত ও পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে সড়কপথের উপর চাপ কমাবে। এতে থাকবে এয়ার কন্ডিশন্ড কোচ ও “কবচ” অ্যান্টি-কলিশন প্রযুক্তির সুবিধা। সিলিগুড়ির হিল কার্ট রোড ও সেবক রোডের মত যানজটে ভরা রাস্তাগুলির উপর চাপ হ্রাস পাবে।

পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর সিলিগুড়িতে গত এক দশকে ব্যাপক জনসংখ্যা বৃদ্ধি হয়েছে—বর্তমানে এটি ১০ লক্ষেরও বেশি স্থায়ী বাসিন্দার আবাসস্থল। এই পরিস্থিতিতে শহরের অভ্যন্তরীণ ট্র্যাফিক সমস্যা মেটাতে আমি মেট্রো রেল পরিষেবা চালুর প্রস্তাবও দিয়েছি। প্রস্তাবিত মেট্রো প্রকল্প দৈনিক প্রায় ৫০,০০০ যাত্রী পরিবহণ করতে পারবে, যানজট হ্রাসের পাশাপাশি পর্যটনেরও উন্নতি ঘটাবে—বিশেষ করে বাগডোগরা বিমানবন্দর ও নিউ জলপাইগুড়ি জংশনের সান্নিধ্য থাকায়। এটি এই অঞ্চলের নগর পরিবহণের সমস্যাগুলির স্থায়ী সমাধান দিতে পারে।

তদুপরি, আমি সিলিগুড়ি-তরাই অঞ্চলে একটি রেল কোচ কারখানা স্থাপনের জোর দাবি জানিয়েছি। উত্তর–পূর্ব ভারতের কাছাকাছি অবস্থান এবং কর্মসংস্থানের সন্ধানে থাকা বিশাল যুবসমাজের কারণে এই অঞ্চলটি একটি আদর্শ স্থান বলে আমি মনে করি। এই প্রকল্পগুলি শুধু সিলিগুড়ি, দার্জিলিং পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্সের জন্য নয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও পর্যটনের বিকাশের জন্যও অত্যন্ত জরুরি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, রেল মন্ত্রক এই দাবিগুলিকে অগ্রাধিকার দেবে এবং আমাদের দার্জিলিং পাহাড়, সিলিগুড়ি, তরাই, ডুয়ার্স, উত্তরবঙ্গ ও উত্তর–পূর্ব ভারতের এক সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে।

Advertisement
Live Cricket Score
upskillninja