আদিবাসী ছেলেমেয়েদের মধ্যে শিক্ষার আলো জ্বালাচ্ছেন শহরের প্রবীণরা

#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ উত্তর দিনাজপুর জেলার প্রত্যন্ত এলাকাগুলির আদিবাসী ছেলেমেয়েদের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়াতে এগিয়ে এসেছেন রায়গঞ্জ শহরের একদল প্রবীণ সমাজসেবী, শিক্ষক, অধ্যাপকেরা। একসময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যাপনায় যুক্ত থাকা এই প্রবীণরা আজ তাঁদের অবসর জীবনে হাতে তুলে নিয়েছেন এক মানবিক দায়িত্ব—বঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া আদিবাসী শিশুদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করা।

রায়গঞ্জ ইউনিভার্সিটি কলেজের প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার গ্রুপের উদ্যোগে দেশবন্ধু পাড়ার একটি ঘরে, শুরু হয়েছে একটি ফ্রি কোচিং ক্যাম্প, যেখানে একদম বিনামূল্যে পড়ানো হচ্ছে আদিবাসী সম্প্রদায়ের ছেলে-মেয়েদের। অধ্যাপক তাপস ঘোষ জানান, “এদের মধ্যে অনেকেই এমন পরিবার থেকে এসেছে, যেখানে আগে কেউ কোনোদিন স্কুলে যাননি। অনেক সময় ওদের দুবেলা পুষ্টিকর খাবার জোটে না, অথচ তাদের মধ্যে শেখার আগ্রহ প্রচণ্ড।”

এই উদ্যোগের প্রধান দায়িত্বে রয়েছেন অলোক বিশ্বাস, যিনি বাহিন হাই স্কুলের প্রাক্তন টিচার ইন চার্জ । তাঁর সঙ্গে কাজ করছেন মুকুল রায়, আর এই কর্মকাণ্ডকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন রায়গঞ্জ ইউনিভার্সিটি কলেজের প্রাক্তন অধ্যাপক ও কালিয়াগঞ্জ কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ ড. পীযুষ কান্তি দাস। সঙ্গে আছেন প্রাক্তনী নরেশ দাশ (রায়গঞ্জ মোহনবাটি হাই স্কুলের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক) ও অন্যান্য প্রবীণ শিক্ষকরাও। সংগঠনের সদস্য কনক রঞ্জন সেন বলেন, “এই ফ্রি কোচিং ক্যাম্প চালানো আমাদের কাছে শুধু একটা সামাজিক দায় নয়, বরং এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। কিন্তু এই চ্যালেঞ্জই আমাদের কাছে অনুপ্রেরণা।”

ড. পীযুষ কান্তি দাস বলেন, “আমাদের জীবনের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান এবং সময়কে কাজে লাগিয়ে সমাজের পিছিয়ে পড়া অংশকে একটু এগিয়ে দিতে পারলে সেটাই আমাদের বড় সাফল্য।” এই ধরনের উদ্যোগ আজকের দিনে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত—যেখানে অবসর মানেই গৌণ হয়ে যাওয়া নয়, বরং সমাজের জন্য আরও একবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়ার সুযোগ। শহরের প্রাক্তন এই শিক্ষকরা যেন তাদের দীপ্ত ছায়ায় আদিবাসী ভবিষ্যতের পথ দেখাচ্ছেন।






