
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ রায়গঞ্জ শহরের দক্ষিণ কসবা নেতাজী মোড় এলাকার বাসিন্দারা এক বিরল মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বেশ কয়েকমাস আগে, হঠাৎই এক অজ্ঞাতপরিচয় মুক ও বধির মহিলাকে পথের ধারে অসহায় অবস্থায় বসে থাকতে দেখা যায়। কারো সঙ্গে কথা বলতে পারে না, নিজের নাম পরিচয়ও জানাতে সে অক্ষম।

এই অবস্থায় তাঁকে অবহেলা না করে, এলাকার কিছু মানবিক মানুষ এবং ব্যবসায়ীরা এগিয়ে আসেন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে। স্থানীয়দের একাংশ তাঁর থাকা ও খাবারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছেন। কেউ কাপড় দিয়েছেন, কেউ খাবার দিয়ে সাহায্যও করছেন। মুক ও বধির ওই মহিলাকে নানা বিষয়ে ইঙ্গিতে প্রশ্ন করা হলে, তিনি অবশ্য তার উত্তর দিতে আগ্রহী বলে মনে হয় নি। বরং কোনো এক বাসিন্দার দেওয়া রুটি তরকারি খেতেই, বেশি মগ্ন ছিলেন।

স্থানীয় দোকানদার বিজয় শীল বলেন, “ওনার মুখে কোনো কথা নেই, হাত-পায়ের ভঙ্গিমায় বোঝানোর চেষ্টা করেন। আমরা বুঝতে পারিনি উনি কোথা থেকে এসেছেন। তবে আমরা তাঁকে নিজের মানুষের মতোই দেখে যতটা সম্ভব সাহায্য করছি।” বর্তমানে ওই মহিলা নেতাজী মোড় সংলগ্ন এক বটগাছের নিচে খোলা আকাশের নিচেই থাকেন। স্থানীয় বাসিন্দা তথা পাড়াহরিপুর হাই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পুলক চক্রবর্তীর দাবি, প্রশাসনের উচিত ওই মহিলার পরিচয় জানার চেষ্টা করা এবং তাঁর সুরক্ষার উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

স্থানীয় বাসিন্দা দীপাঞ্জলী বর্মন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে উনি এভাবে থাকছেন। আমরা ওনার ঘর খুঁজতে বহু চেষ্টা করেছি। সামাজিক মাধ্যমে ছবি দিয়েও কোনো লাভ হয় নি। তবে ব্যস্ত রাস্তায় যেভাবে বসে থাকেন, তাতে যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

রায়গঞ্জের মহকুমাশাসক কিংশুক মাইতিকে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে, তিনি বলেন, আমি বিষয়টির খোঁজ নেব। এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দপ্তরকে নির্দেশ দেব। তবে, শহরবাসী কিন্তু এই মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করছেন। তাঁরা দেখিয়ে দিলেন, এখনও সমাজে ভালো মানুষ আছে, যারা চুপ করে থাকা এক অসহায় নারীর কান্না শুনতে পান।






