
#নিউজ বৃত্তান্তঃ উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতে গৃহবধূ নিখোঁজের ঘটনা চোখে আঙুল দিচ্ছে এক ভয়ংকর সামাজিক প্রবণতার দিকে। গত পাঁচ মাসে নিখোঁজ হয়েছেন প্রায় ৫০০ জন বিবাহিত মহিলা। এতদিন অবিবাহিত কিশোরীদের ঘর ছেড়ে পালানো ঘটনা সামনে এলেও, এবার স্বামী-সন্তান ও সংসার ফেলে গৃহবধূরাই নিখোঁজ হচ্ছেন, যা স্বাভাবিকতা ভেঙে দিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত নিখোঁজ হয়েছেন মোট ৫৩৬ জন মহিলা, যাদের অধিকাংশই বিবাহিতা। এঁদের অনেকেই ঘর ছেড়েছেন কোনও ব্যবসায়ী, ঠিকাদার, দামি বাইকের মালিক বা রাজমিস্ত্রীর সঙ্গে। এমনকি বাড়ির পরিচারক বা দিনমজুরের সঙ্গেও গৃহবধূদের সম্পর্ক তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহার ও সোশ্যাল মিডিয়ার অন্ধ নির্ভরতা মহিলাদের অনলাইনে অপরিচিতদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে সাহায্য করছে। ফলে সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে, এবং সুযোগ পেলেই তাঁরা সংসার ত্যাগ করছেন। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, এইসব মহিলাদের অনেকেরই ছোট ছোট সন্তান রয়েছে। তবু মায়ের ভূমিকা ভুলে তাঁরা গৃহত্যাগ করছেন। সন্তান মাতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, সংসার ভেঙে যাচ্ছে, কিন্তু তাতেও তাদের অনুশোচনার চিহ্ন নেই।

উদ্ধার করলেও বহু গৃহবধূ ফেরত যেতে নারাজ। পুলিশের মুখোমুখি হয়ে তাঁরা বলছেন, “আমরা প্রাপ্তবয়স্ক। আমাদের জীবনের সিদ্ধান্ত আমরা নিজেরাই নেব।” সমাজের স্বাভাবিক নিয়ম ভেঙে তাঁরা নতুন সম্পর্কে বিশ্বাস রাখছেন, পুরনো সম্পর্ককে আর গুরুত্ব দিচ্ছেন না। অনেকে আবার সমাজে সম্মানহানির আশঙ্কায় নিজেদের পরিচয় গোপন রাখার জন্য পুলিশের কাছে অনুরোধ করছেন। কিন্তু এই ঘটনাগুলি শুধু ব্যক্তিগত নয়, সামাজিক প্রভাবও ফেলছে গভীরভাবে।

এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে—এ কি শুধুই টাকার মোহ? না কি আরও গভীরে লুকিয়ে রয়েছে মানসিক অতৃপ্তি, নিঃসঙ্গতা, কিংবা অন্য কোনও সুখের খোঁজ? সমাজবিদেরা বলছেন, গৃহবধূদের এই প্রবণতা সমাজে এক গভীর অসন্তোষ ও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যার প্রতিকার সহজ নয়।





