
#চন্দ্র নারায়ন সাহা, রায়গঞ্জঃ রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরে সাঁওতালি বিভাগ চালুর দাবিতে মঙ্গলবার এক প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। আদিবাসী সংগঠন UFAAO-র আহ্বানে রায়গঞ্জ শিলিগুড়ি মোড় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর পর্যন্ত প্রায় দুই শতাধিক মানুষ এই মিছিলে অংশ নেন। সংগঠনের অন্যতম কর্মী দিলীপ কিস্কু জানান, “আমরা বহুবার রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলরকে এই বিষয়ে লিখিত দাবি জানালেও আজও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আমরা চাই, এই শিক্ষাবর্ষ থেকেই অবিলম্বে সাঁওতালি বিভাগ চালু হোক। দীর্ঘদিনের দাবিকে আর অবহেলা সহ্য করা হবে না।”

আন্দোলনে উপস্থিত বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও অধ্যাপক বাপি সরেন বলেন, “শুধু বিভাগ চালুর দাবিই নয়, রাজ্যের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক ও শিক্ষাকর্মীদের নিয়োগ ও প্রোমোশনের ক্ষেত্রে রোস্টার নিয়ম ভেঙে আদিবাসীদের সংরক্ষিত আসন বঞ্চিত করা হচ্ছে। এটা প্রশাসনিক কারচুপি। আমরা এর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করব, প্রয়োজনে দুর্নীতিবাজ কর্তৃপক্ষকে গণআন্দোলনের মাধ্যমে ঘেরাও করব।”

তিনি আরও জানান, “এই রাজ্যে আদিবাসী জনসংখ্যা ৬ শতাংশের উপরে, তবু মাত্র ৭টি EMRS (একলব্য মডেল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল) রয়েছে। অন্যদিকে অন্ধ্রপ্রদেশে আদিবাসী জনসংখ্যা ৫ শতাংশের নিচে হলেও সেখানে রয়েছে ২৮টি EMRS স্কুল এবং একটি ট্রাইবাল বিশ্ববিদ্যালয়। রাজ্য সরকার যাতে অবিলম্বে প্রত্যেকটি আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকাতে EMRS স্কুল তৈরি। উত্তর ও দক্ষিনবঙ্গে একটি করে ট্রাইবাল ইউনিভার্সিটি গঠন করে। যদি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেয়, তবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে তার জবাব দেওয়া হবে।”

আজকের এই মিছিলে উপস্থিত ছিলেন আদিবাসী সমাজের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি কানু মার্ডি, বিপ্লব হাসদা, সুমিত বাস্কে, দীপক হাসদা, সাবিত্রী মুর্মু প্রমুখ। আদিবাসী সমাজের প্রতিনিধিদের বক্তব্য, ভাষা ও শিক্ষা অধিকারের এই দাবি আদর্শিক এবং সাংবিধানিকভাবে ন্যায্য। সরকার যদি আরও দেরি করে, তাহলে আন্দোলন আরও বৃহত্তর রূপ নেবে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে এখনও কোনো প্রত্যুত্তর পাওয়া যায় নি।






