Explore

Search

July 9, 2026 11:44 pm

IAS Coaching

প্রগতি লেখক সঙ্ঘ-এর রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তি

#কলকাতা: সংস্কৃতিমুখর বাংলায় রবীন্দ্রনাথ মানেই ফ্যাসিবাদ বিরোধী মুখ। সংস্কৃতিমুখর বাংলা মানেই নজরুল-রবীন্দ্রনাথের মিলনমেলা। কলকাতা সহ আরও কয়েকটি জেলার সংস্কৃতি মনস্ক মানুষ এসেছিলেন শনিবারের রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তীতে অংশ গ্রহণ করার জন্য। এদিন কলকাতার শতাব্দী প্রাচীন ত্রিপুরা হিতসাধিণী সভাঘরে প্রগতি লেখক সঙ্ঘ-সম্মেলক শাখার উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানে মোট ৪০ জন কবিতা পাঠ করেন। রবীন্দ্রনাথ ও কাজী নজরুলের কবিতা আবৃত্তি করেন ১০ জন। নৃত্য পরিবেশন করেন মৌসুমী চ্যাটার্জি এবং পাপিয়া মিত্র। এদিনের অনুষ্ঠানে দু’জন নৃত্যশিল্পী অত্যন্ত উচ্চ ঘরানার নৃত্য পরিবেশন করেন।

তাঁদের নাম আলাদা করে উচ্চারন করতেই হয়। সঙ্গীত পরিবেশন করেন ভাস্কর ভট্টাচার্য, রবীন্দ্র ঘরানায় বাউল সঙ্গীত পরিবেশন করেন পরেশ সরকার ও চয়নিকা পাল। এছাড়াও কলকাতার ‘চতুর্ভুজা’ গোষ্ঠী ও পিয়ালী রায় সহ আরও পাঁচজন। অনুষ্ঠানে সারগর্ভ বক্তব্য রাখেন, ৮৬ বছরের প্রবীণ অধ্যাপক প্রতাপচন্দ্র হাজরা, তিনি বলেন, ‘‘আমি এবং আমাদের পরিবার বিগত পাঁচ দশক ধরে প্রগতি লেখক সঙ্ঘের সঙ্গে যুক্ত। আজকের এই অনুষ্ঠানের সাফল্য দেখে আমার গর্ব বোধ হচ্ছে। বিংশ শতাব্দীর বিদ্বজ্জনেরা বলছেন, বিংশ শতাব্দীতে রবীন্দ্র যুগের সূচনা হয়েছে।

তাঁদের আরও দাবি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ বঙ্গচেতনা থেকে বিশ্বচেতনায় আমাদের পৌঁছে দিয়েছিলেন। কাজী নজরুল প্রসঙ্গে একই কথা বলা যায়। প্রগতি লেখক সঙ্ঘ সেই দায়িত্ব পালন করছে। তাই আজকের এই অনুষ্ঠানে তরুণ প্রজন্মের ভিড় দেখে আমার ভালো লাগছে।‘’
ত্রিপুরা হিতাসাধিনী সভার সচিব দেবব্রত ভট্টাচার্য বলেন, রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে ত্রিপুরার সম্পর্কের কথা। সেই সঙ্গে তিনি যোগ করেন প্রগতি লেখক সঙ্গের প্রসঙ্গ। তার কথায়, ‘আমি এই সংগঠন এবং আজকের এই অনুষ্ঠানে থাকতে পেরে গর্ব বোধ করছি।’

উত্তরবঙ্গের রায়গঞ্জের প্রগতিশীল সাহিত্যের অন্যতম ব্যক্তিত্ব স্বপন মজুমদার তার আবেগতাড়িত বক্তব্যে বলেন, ‘’আজকের এই অনুষ্ঠান দেখে আমরা মনে জোড় পাচ্ছি। ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে আমদের রবীন্দ্রনাথ-নজরুলের পথেই এগতে হবে। প্রগতি লেখক সঙ্ঘ-এর সঙ্গে যুক্ত হয়েই আমরা মননশীল সাহিত্যের কথা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারব।‘’

প্রগতি লেখক সঙ্ঘের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সহ-সভাপতি তথা কালান্তর পত্রিকার সম্পাদক কল্যাণ বন্দোপাধ্যায় বলেন, ‘’এই সংগঠনের বয়স নব্বই বছর হল। সংগঠনের শুরু থেকেই যুদ্ধ বিরোধী, ফ্যাসিবাদ বিরোধী অবস্থান নিয়ে এসেছে প্রগতি লেখক সঙ্ঘ। আর সংস্কৃতির অঙ্গনে রবিন্দ্রনাথ-নজরুল আমাদের পথ দেখিয়েছেন।‘’ রাজ্য কমিটির সহ-সম্পাদক রাজীব মুখোপাধায় বলেন, ‘’আমাদের এই সংগঠনের কাজ এবং সংস্কৃতি বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে দিতে হবে। তার দায়িত্ব নিতে হবে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বকে।’’

প্রগতি লেখক সঙ্ঘ-এর রাজ্য সম্পাদক কপিলকৃষ্ণ ঠাকুর তার অডিও বার্তায় বলেন, ‘’এ আমাদের কাছে অত্যন্ত গর্বের যে প্রগতি লেখক সঙ্ঘ নব্বই বছরে পা দিল। আমাদের বিশেষ করে ভাবাচ্ছে ভারতে নতুন করে ফ্যাসিবাদ। এই ফ্যাসিবাদ আমাদের কাছে চ্যালেঞ্জ। সাহিত্য সৃষ্টি হয় একক উদ্যোগে আমরা জানি। মানুষের মন ও মননকে প্রস্তুত করতে সাহিত্যের রয়েছে অসামান্য ভূমিকা। রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল এই দায়িত্ব পালন করে গিয়েছেন নিরন্তর। প্রগতিশীল ভাবনার মধ্য দিয়েই আপনারা নতুন প্রজন্মের লেখকরা সেই কাজটি সফল ভাবে করতে পারবেন সেই আশা রাখি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য কমিটির সদস্য দীনবন্ধু সরকার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সোনালী বিশ্বাস, সেঁজুতি গোস্বামী এবং প্রগতি লেখক সঙ্ঘ, সম্মেলক শাখার আহ্বায়ক দীপেন্দু চৌধুরী।

Advertisement
Live Cricket Score
upskillninja