#মালবাজার: মাল ব্লকের চেল নদীর ধারে রয়েছে মানাবাড়ি চাবাগান। দীর্ঘ দিনের রুগ্ন এবং অচলাবস্থায় পড়া এই চাবাগানে শ্রমিকদের হিতার্থে মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প ‘চা- সুন্দরী ‘ মাধ্যমে এই চাবাগানে ২৪৮ টি ঘর নির্মাণ হয়েছিল। প্রথম দফায় ৪২টি এবং দ্বিতীয় দফায় ২০৬ ঘর নির্মিত হয়েছে। সুদৃশ্য আবাসন নির্মিতি হলেও উপভোক্তা শ্রমিকরা কেউ সেই ঘরে থাকছে না। এমনকি প্রথম দফার ৪২টি ঘরের চাবি ঘটা করে উপভোক্তাদের হাতে তুলে দেওয়া হলেও সবাই পরিবার নিয়ে ঘরে এসে থাকছেন না। বেশ কয়েকজন অবশ্য থাকছেন। বাকি ঘর গুলো সার সার সুন্দর ঘর পড়ে রয়েছে।

কেন থাকছেনা না? জানতে চাওয়া হলে প্রথম দফায় ঘর প্রাপকদের কয়েকজন জানান, আমরা ঘর পেয়ে সাফ সাফাই করেছিলাম কিন্তু, আমাদের অনেকের গরু, ছাগল সহ অন্যান্য গবাদিপশু রয়েছে। গবাদিপশু রাখার মতো পরিকাঠামো এই আবাসন গুলিতে নেই। এজন্য সমস্যা হচ্ছে। দ্বিতীয় দফাতে (২০২৩-২৪) ২০৬ টি ঘরের জন্য উপভোক্তাদের তালিকা তৈরি হলেও এখন পর্যন্ত তাদের সবার হাতে চাবি তুলে দেওয়া সম্ভব হয়নি। ঘর বন্টন নিয়ে অভিযোগ উঠছে। যারা প্রকৃত পাওয়ার যোগ্য তাদের বাদ দিয়ে অন্যদের দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।

চাবাগানের শ্রমিক ও কর্মী বিষ্ণু উরাও, রমেশ বরা জানান, যেসব শ্রমিক চা বাগান বন্ধ থাকার সময় ফাওলাই ( বন্ধ থাকাকালীন সরকারি ভাতা) পেয়েছিল, যাদের নামে প্রবিডেন্ট ফান্ড নম্বর রয়েছে ও যারা পাট্টা পেয়েছে তাদের মধ্যে থেকে তালিকা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু, বন্টণের সময় এবং চাবি তুলে দেওয়া সময় দেখা যাচ্ছে অনেকের নাম বাদ দিয়ে অন্যদের দেওয়া হচ্ছে। এতেই সমস্যা হচ্ছে। প্রথম দফায় যেভাবে বিডিও অফিসের লোকজন এসে অনুষ্ঠান করে তালিকা অনুযায়ী চাবি তুলে দিয়েছিল এখন সেটা হচ্ছে না। এজন্যে সমস্যা হচ্ছে।

তবে অন্য এক সূত্র থেকে জানা গেছে, যেসব শ্রমিক জমির পাট্টা পেয়েছেন এবং ঘর করার জন্য সরকারি অনুদান ১.২০ লক্ষ টাকা পেয়েছেন তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই বাদ দিতেই কিছু শ্রমিক ক্ষুব্ধ হয়েছে। যার জন্য সবার হাতে চাবি তুলে দেওয়া এখনো সম্ভব হয়নি। এজন্য সার সার ঘর এখনো তালা বন্ধ। এ নিয়ে ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নিয়ম নিয়ম মেনে সবাই যাতে ঘরে প্রবেশ করতে পারে তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






