
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ রায়গঞ্জের বোগ্রাম এলাকার যুবক নারায়ণ সরকার দেখিয়ে দিলেন, স্বপ্ন আর অধ্যবসায় থাকলে কিছুই অসম্ভব নয়। ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল সিভিল সার্ভিস- ২০২২’ পরীক্ষায় রাজ্যে ৪৬তম স্থান অধিকার করে ‘অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার অফ রেভিনিউ’ পদে নির্বাচিত হয়েছেন এই তরুণ।

ছোটবেলা থেকেই মানুষের জন্য কাজ করার তীব্র ইচ্ছে ছিল নারায়ণের। তাই রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিদ্যা নিয়ে স্নাতক পড়াশোনার মাঝেই সিভিল সার্ভিসের প্রতি ঝোঁক বাড়তে থাকে।প্রস্তুতি শুরু হয় ধাপে ধাপে। রোজ ৬-৭ ঘন্টা বই, পত্রিকা, জার্নাল ঘেঁটে, মক টেস্ট দিয়ে নিজেকে তৈরি করেছেন তিনি।

বর্তমানে নারায়ণ ভারতীয় রেলের কাশিমবাজার স্টেশনে কর্মরত। ডিউটির পরও ঘরে ফিরে বই নিয়ে বসেছেন। এদিন ফোনে তাঁর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “পড়তে পড়তে মাঝে মধ্যে মন খারাপ হতো, বাড়ির কথা মনে পড়ত। তখন ইউটিউবই ছিল মানসিক শক্তি ফেরানোর একমাত্র ভরসা। অনেক অনুপ্রেরণামূলক ভিডিও, আর শিক্ষামূলক কনটেন্ট আমাকে নতুন করে উৎসাহ দিয়েছে,” বললেন নারায়ণ।

পদার্থবিদ্যা ছেড়ে ইতিহাসকে মেইন্সের বিষয়ে হিসেবে নেওয়া হল কেন, জানতে চাইলে নারায়ন আরও জানান, “ইতিহাস শুধু বিষয় নয়, এটা আমাদের অতীত জানার দরজা। সেটা জানলেই ভবিষ্যৎ গড়ার পথ সুগম হয়। তাই মেইনসে আমি ইতিহাস নিয়েই বসেছিলাম।” রায়গঞ্জ সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুলের প্রাক্তনী নারায়ণ মনে করেন, সিভিল সার্ভিসে সফলতার চাবিকাঠি ধৈর্য ও ফোকাস। “লক্ষ্য ঠিক থাকলে, কঠোর পরিশ্রম করলে, সাফল্য আসবেই। মাঝপথে ভেঙে পড়লে চলবে না,” পরামর্শ তাঁর।

বাবা-মা সহ গ্রামের মানুষ অত্যন্ত গর্বিত। নেতাজী অনুরাগী নারায়ণের কথা, “এই পেশার মাধ্যমে মানুষের সেবা করার সুযোগই সবচেয়ে বড় পাওয়া। সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সেই কাজই করে যেতে চাই সারা জীবন।” এই সফলতায় প্রমাণিত, মফস্বলে থেকেও ইউটিউবকে হাতিয়ার করেও স্বপ্নপূরণ করা সম্ভব।






