
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ নিজে কখনও স্কুলের সপ্তম শ্রেণীর গণ্ডিও পেরোতে পারেননি। কাঁধে ছিল সংসারের দায়। গ্রামের মাঠে কৃষি কাজ করলে, তবেই চলে সংসার। অথচ সেই আবু সায়েদই এবার স্বপ্নপূরণ করলেন—ছেলেকে ডাক্তার বানানোর। হ্যাঁ, ইটাহার ব্লকের সীমান্ত গ্রাম বারিওলের আবু সায়েদের ছেলে নূর ইসলাম এবারে এমবিবিএস পড়ার সুযোগ পেয়েছে সর্বভারতীয় পরীক্ষায় ৫৮৫ নম্বর পেয়ে।

গ্রামের গর্ব হয়ে ওঠা নূরের এই সাফল্যে গোটা বাজিতপুর গ্রামে এখন উৎসবের আমেজ। কে বলবে এই বাড়ির প্রধান আয় কৃষিকাজ? রাস্তার ধারে সবে বানানো একতলা কাঁচা-পাকা ঘরের সামনেই এখন ভিড়, “এই তো ডাক্তারবাবুর বাড়ি।” নূর ইসলাম জানায়, “বাবা-মায়ের স্বপ্ন ছিল আমাকে ডাক্তার বানানোর। মাধ্যমিক পাস করি গ্রামীণ স্কুল থেকেই, তারপর ভর্তি হই মাড়াইকুড়া ইন্দ্র মোহন বিদ্যাভবনে। রায়গঞ্জে থেকে পড়াশোনা করেছি। দিনে ১৪-১৫ ঘণ্টা পড়েছি। কোচিং, টেস্ট—সবই করতাম। আজ আমার সফলতা এসেছে।”

নূরের মা নূরবানু বলেন, “অনেক কষ্ট করে ছেলেকে পড়িয়েছি। ধান বিক্রি করে, ঋণ নিয়ে, কখনো খালি পেটে থেকেও ছেলেকে কোচিং করিয়েছি। আজ মনে হচ্ছে সব পরিশ্রম সার্থক।” অবশ্য স্বপ্নপূরণ হলেও চিন্তার ভাঁজ আবু সায়েদের কপালে। “ছেলের পড়াশোনার খরচ কীভাবে চালাবো, ভেবে পাচ্ছি না। মেডিক্যাল কলেজে পড়া তো সহজ কথা নয়,”—চোখের কোণে জল নিয়ে বলেন তিনি।

নূরের এই অভাবনীয় সাফল্যে গর্বিত তার স্কুল। স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিশ্বজিৎ মন্ডল জানালেন, “নূর আমাদের স্কুলের গর্ব। তার জন্য স্কুলের তরফে আমরা এক সংবর্ধনার আয়োজন করব।” নূরের এই সাফল্য শুধু একটি পরিবারের নয়, গোটা গ্রামের, গোটা ব্লকের অনুপ্রেরণা। যেখানে স্বপ্ন আছে, সেখানেই পথ আছে—এই বার্তাই যেন দিয়ে গেলেন কৃষক আবু সায়েদ ও তার ডাক্তারপুত্র নূর ইসলাম।








