
#মালবাজার: ডুয়া র্সের জলবায়ুর একটা বৈশিষ্ট্য হলো মে জুন মাসে একদিকে প্রবল দাবাদহ অন্যদিকে বর্ষার জলে পুষ্ঠ ডুয়ার্সের পাহাড়ি নদী গুলো স্রোতস্বিনী হয়ে ওঠে। এইরকম পরিবেশে গরমের হাত থেকে বাঁচতে অনেকেই নদীর জলে নেমে স্নান করেন। জলের গভীরতা বেশি না থাকায় সাঁতার কাটা হয়তো যায় না কিন্তু শীতল করা যায় শরীর। এই কারণে অনেকেই এ সময় নদীতে স্নান করতে নামেন। এই রেওয়াজ বহু দিন ধরে চলছে।

সম্প্রতি কালে দেখা গেছে নদীর বুকে জেসিপি মেশিন নামিয়ে খননের কারণে তৈরি হচ্ছে গর্ত। সেই গর্তে জল জমে তৈরি হচ্ছে খাদ। এজন্য মাঝে মাঝে মধ্যে ঘটে যায় বিপত্তি। স্নান করতে নেমে অসাবধানবশত তলিয়ে যায় কেউ কেউ। গত বৃহস্পতিবার ডায়না নদীতে ঘটে যাওয়া ঘটনার পর অনেকেই এই বিষয়ে জানিয়েছেন।

সারা বছর ক্ষীনকায় স্রোতধারা প্রবাহিত হলেও বর্ষার মরসুমে অন্যান্য পাহাড়ি নদীগুলির মতোই ডায়না নদীও ভয়ানক চেহারা ধারণ করে। মে মাসার মাঝামাঝি থেকে পাহাড়ি এলাকায় হওয়া প্রবল বর্ষণের ডায়নার বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছিল।সেই সময় জলের প্রবাহের অভিমুখ বদল করতে নদীতে জেসিবি নামিয়ে খনন করে স্রোতের গতিপথ ঘুরিয়ে দেওয়ার কাজ করা হয়েছিল। এর ফলে নদীখাতের বিভিন্ন জায়গায় গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে, যা আপাতভাবে বোঝা যায় না।

নদীগর্ভে তৈরি হওয়া গর্ত সম্পর্কে অবগত না হওয়া এবং নদীর জলপ্রবাহের বেগ বেশি থাকার জেরেই এই দূর্ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়দের অভিমত। স্থানীয় বাসিন্দা রাজেশ ক্ষেত্রী জানান, জেসিপি মেশিন দিয়ে নদীর গতিপথ পরিবর্তন করতে গিয়ে নদী খাত তৈরি হয়েছে। সেখানে জল জমে থাকায় নদীর বুকে ছোট ছোট পুকুরের মতো জলাশয় তৈরি হয়েছে। পারের বাড়ির নরম থাকায় অনেকেই পা পিছলে পড়ে গিয়ে তলিয়ে যান।

বৃষ্টি বন্ধ হয়ে প্রবল গরম পড়তেই বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন এই নদীতে স্নান করতে ছুটে গিয়েছিল। বৃহস্পতিবার আমবাড়ির যুবক যোগেশ বরাইক জলে ডুবে মারা যাওয়ার পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কতা, নজরদারি ও জলে নামায় নিষেধাজ্ঞা জারি না হওয়ায়, দুপুরের পরও অনেকেই নদীতে স্নান করতে এসেছিল। বিকেলে ৫ স্কুল পড়ুয়া এই গর্তের কারনে প্রবল স্রোতে তলিয়ে যায় বলে জানা গিয়েছে। ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শুধু ডায়না নয়, এর আগে চেল, জলঢাকা, নেওরা নদীতে মানুষের সৃষ্টি করা নদী খাদের জলে পড়ে তলিয়ে গিয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।






