#মালবাজার: ডুয়ার্সের মতো একটি গ্রিন জোনে জঙ্গল ঘেরা পথে রাতের আঁধারে বালি পাথর বোঝাই ডাম্পারের মিছিল কেন? বিকল্প ব্যবস্থা কি ছিল না? শনিবার মালবাজার শহরে জাতীয় সড়কে ডাম্পার অবরোধের পর নিগৃহীত হয়েছে সাংবাদিক থেকে সাধারণ মানুষ। তারপর পুলিশের ধরপাকড়ে গ্রেপ্তার হয়েছে পাঁচজন। রাতভর চলছে পুলিশী শহর। এইরকম পরিবেশে ঘটনার তিনদিন বাদে এরকমই প্রশ্ন তুলেছে বিভিন্ন পরিবেশপ্রেমী সংগঠন ও সাধারণ মানুষ।
উল্লেখ্য, গত শনিবার রাত সাড়ে নটা নাগাদ আচমকাই মালবাজার শহরে জাতীয় সড়কের উপর দিয়ে থানা হাসপাতাল মহকুমা শাসকের দপ্তরের সামনে শতাধিক বালিপাথর বোঝাই ডাম্পার চলতে দেখা যায়।

পরিস্থিতি এমনই হয় যে সাধারণ মানুষ রাস্তা পারাপার করতে পারছিলেন না। এইরকম পরিবেশ ঘন্টাখানেক চলার পথ আচমকাই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে স্থানীয় যুবকেরা। তারা ডাম্পার আটকে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। ঘটনার স্থলে পৌঁছায় মাল থানার পুলিশ। সেই সময় জনৈক ডাম্পার মালিককে বলতে শোনা যায় “পুলিশকে মাসোহারা দেই, ডাম্পার তার নিজের পথেই চলবে”। এই কথা বলতেই আগুনে ঘি পড়ে, ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে স্থানীয় যুবকরা। ডাম্পারের মালিক, চালক ও কর্মীদের সাথে স্থানীয়দের বেধে যায় হাতাহাতি মারামারি। সেই সময় সাংবাদিকরা খবর সংগ্রহ গেলে তাদের মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয়। দেওয়া হয় বেধড়ক মার। ডাম্পার মালিক কর্মীদের হাতে মার খেয়ে সাংবাদিকরা পুলিশের দ্বারস্থ হয় এজাহার করে।

পরে ডাম্পার মালিক ও চালকরা থানায় এজাহার করে। পরস্পর এজাহারেরর পর মাল থানার পুলিশ ইতিমধ্যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনার পর থেকে মালবাজার শহরে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। এইরকম পরিবেশে প্রশ্ন উঠেছে যাকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটেছে সেই বালি পাথর বোঝাই ডাম্পার কেন রাতের আঁধারে চলছিল। বিশেষ করে ডুয়ার্সের মালবাজার, চালসা লাটাগুড়ির মত গ্রিন জোনে বালি পাথর বোঝাই ডাম্পার চলাচলের অনুমতি কে দিয়েছিল? অনুমতি যদি দেওয়াই হয় তবে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ছিল না কেন?

এ নিয়ে চালসার বিশিষ্ট পরিবেশপ্রেমী মানবেন্দ্র বেসরকার বলেন, চালসা থেকে পুর্বে চাপ্রামারি ও দক্ষিনে গরুমারা অভয়ারণ্য রয়েছে। সেই বনাঞ্চলের মধ্যে দিয়ে বয়ে গেছে জাতীয় সড়ক।রাতের আঁধারে বন্য জন্তুরা রাস্তা পারাপার করে, খাওয়ার সংগ্রহ করে। এইরকম পরিবেশে এই সরক ধরে এভাবে লাগাতার ভারী যানবাহন চলাচল করলে বণ্যজন্তুদের সমস্যা হতে পারে। এসব বুঝেই অনুমতি দেওয়া উচিত ছিল।
এক বিশিষ্ট পরিবেশপ্রেমী বলেন, রাতের আঁধারে এভাবে নদী সম্পদ পরিবহন করা যায় কি? গেলেও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা কোথায়? এসব ভেবে দেখা দরকার।








