
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ পারিবারিক কারনে মোহনবাটি বাজারের পেছনে একটি ছোট্ট ঘরে থাকেন মিঠু দাসগুপ্ত। শহরে সারমেয় প্রেমী হিসেবে মিঠু দেবী সকলের কাছে ভীষণ পরিচিত। নিজের হাতে নিয়মিত মোদক পাড়া, মোহনবাটি বাজার, মিলনপাড়া, নবোদিত সংঘের আশেপাশের পথ কুকুরদের খাওয়ান মিঠু দেবী। তাদের চিকিৎসা থেকে বাৎসরিক বনভোজন সবটাই আয়োজন করেন তিনি। এই কাজে বহু সহৃদয় মানুষ সহয়তা করলেও কুকুরদের জন্য খরচ যোগাতে এবার ধূপ বিক্রি করা শুরু করলেন তিনি। বাড়ি, দোকান ও রাস্তায় হাতে ধুপ বেচছেন তিনি। তাঁর দাবি, এভাবেই যতটুকু টাকা উপার্জন হবে, সবটাই কুকুরদের জন্য ব্যয় করা হবে।

রায়গঞ্জ মোহনবাটি বাজার চত্বরে বাড়ি, পাড়া এবং তল্লাট মিলিয়ে মোট ৬০ খানা সারমেয়কে নিয়মিত সঙ্গ দেন তিনি। সকাল ও রাতে সবজি, ডাল, ভাত রান্না করে তিনি তুলে দেন ওই সারমেয়দের পাতে। মিঠু দেবী বলেন, এই কাজ করতে গিয়ে যখন যার কাছ থেকে যতটুকু সাহায্য চেয়েছি, ততটাই পেয়েছি। কিন্তু মাসে প্রায় ১৮০ কেজি চাল লাগে। শহরের এক বস্ত্র বিপণীর মালিক ১০০ কেজি চাল দেন। বাকি চাল, ডাল, সবজি, মাংসের ছাট দোকানে দোকানে গিয়ে সংগ্রহ করি। সবসময় সবটা জোগাড় করে উঠতে পারি না। তখন আমার এই সন্তানগুলো না খেয়ে থাকে। এটা ভীষণ কষ্টের।

তিনি বলেন, আমি কারোর দোষও দেব না। শহরের পশু চিকিৎসক ডা রাকেশ মন্ডল নিজের সাধ্যমত চিকিৎসা বিনা পয়সায় দেন। শহরের বড় ব্যবসায়ী থেকে সাধারণ মানুষ, সকলকে বললে সহয়তা পাই, কিন্তু কিছুটা ঘাটতি থাকেই। সেই ঘাটতি পূরণ করতে এবার পাইকারি বাজার থেকে ধূপ কিনে এনে খুচরো দামে বিক্রি করছি। এতে প্রতি প্যাকেটে স্বল্প লাভ হলেও মাসে একটা বড় পরিমাণ অর্থ আর ভিক্ষা চাইতে হবে না।

সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ধূপ বিক্রি করছিলেন মিঠু দেবী। রায়গঞ্জ মার্চেন্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অতনু বন্ধু লাহিড়ী বলেন, আমরা নিজেরা নানান সময়ে আর্থিক সহয়তা করেছি। এখন উনি জিনিসপত্র বেচে তার লাভের অর্থ সারমেয়দের সেবা দিচ্ছেন, এটা ভীষণ ভালো উদ্যোগ।

পশু চিকিৎসক ডাঃ রাকেশ মন্ডল বলেন, সারমেয়দের চিকিৎসার জন্য আমি যতটুকু পারি ওনাকে সহয়তা করি। ভবিষ্যতেও করব। তবে একজন পশু প্রেমী হিসেবে মিঠু দেবী যেভাবে ধূপ বিক্রি করছেন, তা সকলের সামনে নজির হয়ে থাকবে।






