Explore

Search

June 23, 2026 8:14 am

IAS Coaching

হারিয়ে যাওয়া খেলার মধ্যেই পড়ুয়াদের শেখার আনন্দ সামার ক্যাম্পে

#রায়গঞ্জ: ইটাহার ব্লকের মারনাই স্কুলের ছাত্রী রিম্পি প্রামাণিক, কাপাসিয়া স্কুলের পারভিন খাতুন, হাতিয়া হাই স্কুলের চন্দনা দাস, হেমতাবাদ আদর্শ স্কুলের মাসুদ রানা, চোপড়ার মদনগছ সিনিয়র মাদ্রাসার শিক্ষক যোগেশ চন্দ্র বর্মন সহ জেলার বহু শিক্ষক ও ছাত্ররা এবারের গরমের ছুটিতে এক ভিন্ন মেজাজে পড়ুয়াদের পাশে রয়েছেন। স্কুল দেওয়ালের গম্ভীর পরিবেশকে সরিয়ে রেখে মাটিতে বসেই দিনের ভিন্ন ভিন্ন সময়ে চলছে খেলার ছলে শিক্ষা। নতুন উদ্যমে সংঘটিত এমন ঘটনায় রীতিমতো খুশী পড়ুয়া এবং স্বেচ্ছাসেবকেরা।

কি হচ্ছে জানতে এদিন প্রতিবেদক পৌঁছেছিল ইটাহারের দক্ষিনাল প্রাইমারী স্কুলের মাঠে। সেখানে তখন চলছিল কিতকিত, দাড়িয়াবান্ধা, রুমাল চুরির মত খেলা। স্বেচ্ছাসেবক দেবাশীষ সেন বলে, প্রতিদিনই ১ ঘন্টা মত করে ক্লাস করছি। খুব মজা হচ্ছে।

কেন এমন উদ্যোগ, জানতে চাইলে, এই প্রকল্পের জেলা কোঅরডিনেটর বচ্চন মন্ডল বলেন, পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের অধীনে থাকা সরকারি স্কুল গুলোতে চলছে গ্রীষ্মকালীন ছুটি। এরকম পরিস্থিতিতে, পঞ্চম ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে পাঠরত পড়ুয়াদের মধ্যে পড়াশোনার অভ্যাস ধরে রাখা এবং ভাষা ও গণিতের প্রতি আগ্রহ তৈরি করতে উদ্যোগ নিয়েছে উত্তর দিনাজপুর জেলা শিক্ষা দপ্তর। এবছর গরমের ছুটিতে উত্তর দিনাজপুর জেলার ৯টি ব্লকে শুরু হয়েছে সামার ক্যাম্প। এতে হারিয়ে যাওয়া খেলা, গল্পের মধ্যে দিয়ে পড়ুয়ারা নিচ্ছে ভাষা ও গণিতের পাঠ।

কোথায় কোথায় হচ্ছে, এবং কতজন অংশ নিয়েছে জানতে চাইলে, প্রথম ফাউন্ডেশনের পক্ষে দেবব্রত সরকার বলেন, ১৪৮টি গ্রামীণ স্কুলে আগামী ১লা জুন পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে। এতে ২৫৪০ জন স্বেচ্ছাসেবক একসাথে কাজ করছে।

এভাবে কি পিছিয়ে পড়া পড়ুয়াদের মধ্যে ভীতি কাটবে, জিজ্ঞেস করলে জেলা শিক্ষা আধিকারিক পুর্বা দোরজি বলেন, চোপড়া থেকে ইটাহার পর্যন্ত চালু হওয়া এই প্রকল্পের মুখ্য উদ্দেশ্য হল, অনেক বাচ্চা পঞ্চম বা ষষ্ঠ শ্রেণিতে উঠে গেলেও আজও ঠিকমতো রিডিং পড়তে পারে না। তাই গ্রামের একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেনীর পড়ুয়াদের নিয়ে, খুদেদের মধ্যে পড়াশোনার পরিবেশ তৈরি করতে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও এতে অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়বে, পাশাপাশি, অংশ নেওয়া স্বেচ্ছাসেবকদের ডিজিটাল স্কিল ডেভেলপমেন্টের কাজও হবে।

হাতিয়া হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক অনিরূদ্ধ সিনহা বলেন, স্কুলের পক্ষ থাকে গ্রামে গ্রামে আমরা সামার ক্যাম্প সংগঠিত করছি। আমাদের ৯ম, ১০ম শ্রেনীর এগিয়ে থাকা ছাত্র ছাত্রীরা নিজের নিজের এলাকায় খেলাধুলা, ছবি আঁকা ইত্যাদির মাধ্যমে আনন্দদায়ক পরিবেশ তৈরি করে নিচু ক্লাসের ছাত্র ছাত্রীদের পাঠ দান করছে । গোটা গ্রীষ্মকালীন অবকাশে এই ক্যাম্প আমরা চালাবো। শিক্ষক তাপস সাহার নেতৃত্বে বিষ্ণুপ্রিয়া বর্মন, ননীগোপাল বর্মন এরা জমজমাট ক্লাস নিচ্ছে। সবমিলিয়ে প্রথম বারের জন্য জেলায় চালু হওয়া সামার ক্যাম্প সার্বিক ভাবে সফল হওয়ায় খুশী জেলা প্রশাসনের আধিকারিক থেকে খুদে পড়ুয়ারাও।

Advertisement
Live Cricket Score
upskillninja