
#রায়গঞ্জঃ তখনও তার বয়স আঠেরোর গণ্ডি পেরোয়নি। তারপরেও পরিবারের সদস্যরা চাপ দিয়ে বিয়ে ঠিক করেছিল দ্বাদশ শ্রেণির স্কুল ছাত্রীটির। কিন্তু পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বিভিন্ন সময়ের অনুপ্রেরণামূলক শিক্ষার ফলস্বরুপ নিজেই রুখে দাঁড়ায় নাবালিকা মেয়েটি। কন্যাশ্রী ক্লাবের তৎপরতায়, রায়গঞ্জের বিডিওর সহযোগিতায় এবং স্কুলের শিক্ষক -শিক্ষিকাদের সাহায্যে নিজের বিয়ে থামিয়ে মেয়েটি। এবার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল সামনে আসতেই দেখা গেল, ৬৮ শতাংশ নম্বর নিয়ে প্রথম বিভাগে পাস করে আক্ষরিক অর্থে সমাজের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠল রায়গঞ্জের একটি সরকারি স্কুলের দ্বাদশের ছাত্রী।

স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, রায়গঞ্জ থানারই এক গ্রামীণ এলাকায় বাড়ি ওই ছাত্রীর। বাবা পেশায় টোটোচালক। বাড়িতে দুই বোন ও এক ভাই আছে। স্কুলে নিয়মিত আসত ওই পড়ুয়া। স্কুলে একজন পরিশ্রমী ছাত্রী হিসেবেই পরিচিত সে। তার সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা থেকে স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকারা। স্কুলের কন্যাশ্রী ক্লাবের নোডাল অফিসার বলেন, আমরা এমন ঘটনায় ভীষণ খুশি। মেয়েটির পড়াশোনার ইচ্ছে রয়েছে। আমরা স্কুলের শিক্ষক হিসেবে ওর জন্য গর্বিত।

স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জানান, ‘ছাত্রীটি এখন বন্ধুদের সকলের মধ্যে আদর্শ তৈরি করেছে। পরিবারের লোকজন এখন ভুল বুঝতে পেরেছে। তিনি আরও জানান, ‘গ্রামের মানুষ এখনও সচেতন হয়নি। তাই বেশ কিছু শিবির করার ইচ্ছে রয়েছে। ব্লকের কাছে সহযোগিতা চাইব।’

দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রীটির বক্তব্য, ‘আমি পড়াশোনা করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই। তাই শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পাশে নিয়ে, তাঁদের কথামতোই চলব।’ রায়গঞ্জ ব্লকের কন্যাশ্রীর নোডাল অফিসার সুভাষ আরিয়া জানান, ‘কম বয়সে বিবাহ, জোর করে নাবালিকা বিবাহ সামাজিক অপরাধ ওই মেয়েটিকে তার সাহসিকতার জন্য ধন্যবাদ জানাই আগামীদিনেও আমরা ওর পাশে থাকব।’






