#মালবাজার: বি রলতম ঘটনা, চা বাগানের মাঝে বনদপ্তরের পাতা খাঁচায় ধরা পড়েছিল এক পূর্ণবয়স্ক পুরুষ চিতাবাঘ। বণকর্মীরা উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার পথে সেই চিতাবাঘের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর কারণ খুঁজতে ইতিমধ্যেই তার শরীরে ময়নাতদন্ত শুরু হয়েছে। এই ঘটনাকে বিরলতম আখ্যা দিয়েছে পরিবেশপ্রণীরা। বৃহস্পতিবার সকালে মাল ব্লকের গুডহোপ চা বাগানের ১০নম্বর আবাদি এলাকায় বনদপ্তরের পাতা খাঁচায় আটক হয় ওই চিতাবাঘ। উদ্ধার করে লাটাগুড়ি প্রকৃতিবীক্ষণ কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার পথেই চিতাবাঘটির মৃত্যু হয়।

বুধবার থেকেই ডুয়ার্সের আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল। বৃহস্পতিবার ভোর রাত থেকেই শুরু হয় বজ্র বিদ্যুৎ সহ বর্ষণ। প্রবল বর্ষণের মধ্যে চা বাগানের শ্রমিকরা চিতাবাঘে গর্জন শুনতে পায়। কাছে গিয়ে দেখে খাঁচায় আটক হয়েছে বাঘ মহারাজ। চা বাগানের শ্রমিক বীরু নায়েক, চন্দ্রা মুন্ডা জানান, আমাদের চা বাগানে গত বেশ কিছুদিন থেকে চিতাবাঘের উপদ্রব ছিল। ছাগল, হাঁস মুরগি নিয়ে যেত। গত মঙ্গলবার বাঘ ধরতে বনদপ্তর খাচা পাতে। আজ সকালে আমরা গিয়ে দেখি বৃষ্টির মধ্যে চিতাবাঘটি খাঁচার মধ্যে প্রচন্ড দাবাদাবি করছিল। পরে বন কর্মীরা এসে নিয়ে যায়। শুনতে পেয়েছি চিতাবাঘটি মারা গেছে।

এই বিষয়ে উত্তরবঙ্গের বন্যপ্রাণ শাখার মুখ্য বনপাল ভাস্কর জে ভি বলেন, প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে হৃদ যন্ত্র বিকল হয়ে মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্ত শুরু হয়েছে সামগ্রিক বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মৃত চিতাবাঘের শরীরে কোন সমস্যা ছিল কিনা, কি জাতীয় খাদ্য খেয়েছিল? ডিহাইড্রেশন হয়েছে কিনা? সব বিষয় ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট এলে জানা যাবে। তবে ধৃত ওই চিতাবাঘটিকে শ্রমিকরা উতেক্ত করেছে এমন কোন নজির পাওয়া যায়নি।

এই ঘটনাকে বিরলতম আখ্যা দিয়েছে উত্তরবঙ্গের বিশিষ্ট পরিবেশপ্রেমী অনিমেষ বসু।
তিনি বলেন, এটা বিরল থেকে বিরলতম ঘটনা।
সাধারণত চিতাবাঘের ক্ষেত্রে হার্ড ফেল করার ঘটনা ঘটে না। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট এলে কারণ জানা যাবে। আরো জানা গেছে, গত ১৫ দিনে ডুয়ার্সের বিভিন্ন চা বাগান থেকে ১১ টি চিতাবাঘ উদ্ধার হয়েছে এবং খাঁচায় বন্দি হয়েছে। তার আগেও বহু চিতাবাঘ ধরা পড়েছে। কোন ক্ষেত্রেই এইরকম ঘটনা ঘটেনি বলে পরিবেশপ্রেমীরা অভিমত দিয়েছেন।







