#মালবাজার: টানা দুই মাস কাজ করেও মজুরি পাচ্ছেন না। অভাব অভিযোগে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে ডুয়ার্সের ওদলাবাড়ি সংলগ্ন মানাবাড়ি চা বাগানের শ্রমিকদের। চরম এই দুর্দিনে শ্রমিক নেতাদের জানালেও কেউ খোঁজ করতে আসেন নি বলে শ্রমিকদের অভিযোগ। তাই তারা পুরানো নেতৃত্বকেই ফিরে পেতে চাইছেন।

এই ইস্যু নিয়ে সোমবার চা বাগানে কাঁটাঘর কম্যুনিটি হলে চা বাগানের কয়েকশ শ্রমিক বিশেষ সভা করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সম্পাদক মন্ডলীর অন্যতম সদস্য তমাল ঘোষ, ওদলাবাড়ি অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি সুকান্ত চৌধুরী প্রমূখ। সেখানেই তৃণমূল কংগ্রেস প্রভাবিত শ্রমিক সংগঠনের চা বাগানের ইউনিট কমিটি নেতা আশিক প্রজা, পুনম মঙ্গর, রমেশ তির্কি, বিষ্ণু ওরাও প্রমুখেরা বলেন, আমাদের এখন প্রচন্ড দুর্দিন চলছে।

এই পরিস্থিতিতে সংগঠনের নেতৃত্ব মাল কেন্দ্রে বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী বুলু চিকবরাইকের পুত্র অশোক চিকবরাইক, ব্লক কমিটির সভাপতি অর্জুন ছেত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কেউ খোজ নিতে আসেননি। বেশ কয়েক বছর এই চা বাগান যখন দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা মধ্যে দিয়ে চলছিল সেই সময় প্রতিদিন আমাদের পাশে ছিলেন শ্রমিক নেতা পুলিন গোলদার। তিনি সঠিক দিশা দিতেন। আজ আমাদের এই দুর্দিনে আমরা পুলিন গোলদাকেই শ্রমিক সংগঠনের নেতা হিসেবে চাইছি।

এই ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরে এক প্রকার শোরগোল পড়েছে। এ নিয়ে রাঙ্গামাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান তথা শ্রমিক নেতা অশোক চিকবরাইক বলেন, এই বিষয় নিয়ে আমার সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেনি। তবে দ্রুত আমি ওদলাবাড়ি এলাকার নেতৃত্বের মাধ্যমে ওই চা বাগানের শ্রমিকদের সমস্যা মোচনে তৎপর হব।

মাল পৌরসভার দুই নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পুলিন গোলদার বলেন, এই বিষয়ে আমার বলার কিছু নাই। গতবছর ফেব্রুয়ারি মাসেই আমি শ্রমিক সংগঠনের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছে। শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে এখন সে রকম যোগাযোগ নেই। তবে মানাবাড়ি চা বাগানের শ্রমিকদের প্রতি আমার সমবেদনা রয়েছে।
মামাবাড়ি চা বাগান ওদলাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যেই রয়েছে। তাই মানাবাড়ি চা বাগান নিয়ে কোন সিদ্ধান্ত নিতে গেলে ওদলা বাড়ি অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের মাধ্যমে নিতে হবে এমনই দাবি করেছেন অঞ্চল সভাপতি সুকান্ত চৌধুরী।

ওদলাবাড়ির ভূমিপুত্র তথা জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য তমাল ঘোষ বলেন, মানাবাড়ি চা বাগান নিয়ে কোন সিদ্ধান্ত নিতে হবে ওদলাবাড়ি অঞ্চল কমিটির সঙ্গে নিয়ে নিতে হবে। কারণ এর প্রভাব ওদলাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতে এসে পড়বে। এজন্যে সঠিক আলোচনা করে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে।






