
#দেবলীনা ব্যানার্জী, রায়গঞ্জ: রায়গঞ্জের বিধাননগর সংলগ্ন এক শিশু রোগ বিশেষজ্ঞের চেম্বারে রোগীদের নাম লেখেন আব্দুল উকিল। রায়গঞ্জের আর এক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের চেম্বারে দীর্ঘদিন যাবৎ এই নাম লেখার কাজই করে এসেছেন তিনি। দীর্ঘদিন চিকিৎসকদের সাথে থাকলে তারই ছোঁয়ায় চিকিৎসক হওয়া যায় এমনটাই সম্ভবত ভেবে নিয়েছেন আব্দুলবাবু। তাই এমবিবিএস বা এমডি জাতীয় কোনো ডিগ্রি বা ডাক্তারি পড়াশোনার ধার ধারেন নি।

স্বঘোষিত চিকিৎসক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে রায়গঞ্জের বামুহা গ্রামে রীতিমতন ডিসপেনসারি খুলে বসেছেন আব্দুল উকিল। সাইনবোর্ড লাগানো ডিসপেনসারিতে রোগীদের বসার সুবন্দোবস্ত রয়েছে। গ্রামবাসীরা জানাচ্ছেন, সকাল বিকেল রোগীদের লাইন থাকে এই চিকিৎসালয়ে। শিশু থেকে বৃদ্ধ সকলেরই চিকিৎসা করেন তিনি। ওষুধ প্রেসক্রিপশন হিসেবে লিখেও দেন। অথচ ডাক্তারির কোনো ডিগ্রিই নেই তার। কেউ না জেনে আবার কেউ বা জেনেও অজ্ঞ হয়ে চিকিৎসা করাতে আসেন এখানে।

দিনের পর দিন লোকচক্ষুর সামনেই মানুষের জীবন নিয়ে এভাবে ছিনিমিনি খেলা চলছে। ওসমান আলি নামে এক ব্যক্তি জানান, দীর্ঘদিন ধরেই এখানে চিকিৎসা করাচ্ছেন তিনি। এমনকি নিজের ছেলেমেয়েদের চিকিৎসাও এই ডাক্তারবাবুকে দিয়েই করান। এদিন রায়গঞ্জের শিশু রোগ বিশেষজ্ঞের চেম্বারে ডিউটিরত আব্দুলবাবুকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে প্রথমে তিনি কিছুই বলতে চাননি। তারপরে জানান, গ্রামে এরকম ডাক্তার অনেকেই থাকেন। গ্রামবাসীরা অসুস্থ হলে তাদের কাছে আসেন এবং তারা উপসর্গ দেখে ওষুধ দেন। এই জন্য রুরাল একটি সার্টিফিকেট আছে তার।

যদিও এরকম কোনো সার্টিফিকেট দেখাতে এদিন তিনি পারেননি। তবে গ্রামীণ কোনো সার্টিফিকেটের বলে তিনি কিভাবে এমবিবিএস ডিগ্রীধারী ডাক্তারদের সমগোত্রীয় হয়ে ডাক্তারি করে যেতে পারেন, এই প্রশ্নের কোনো উত্তর তিনি দিতে পারেন নি। চিকিৎসক মানুষের কাছে দেবতার সমান হন, কারণ মানুষের জীবন মরণ অনেকাংশেই তাঁদের হাতে থাকে। এহেন মহান পেশাকে নিয়ে কিছু প্রান্তিক গ্রামে মানুষের অজ্ঞতার সুযোগে ব্যবসা চালাচ্ছে বেশ কিছু সুযোগসন্ধানী তা হাতেকলমে ধরা পড়েছে রায়গঞ্জের বামুহা গ্রামে। যেখানে রীতিমতো সাইনবোর্ড লাগিয়ে রোগী দেখছেন শহরের ডাক্তারের সহকারী।







