Explore

Search

July 11, 2026 2:34 pm

IAS Coaching

ভূগোল বিভাগে থার্ড জেন্ডারদের উপর প্রথম পিএইচডি

#রায়গঞ্জ: স্থিতিশীল উন্নয়নের লক্ষ্যে যেখানে জেন্ডার ইকুয়ালিটির কথা বলা হয়েছে, সেই থার্ড জেন্ডার বা ট্রান্স জেন্ডারদের নিয়ে গবেষণা করে আলোড়ন ফেলে দিলেন রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জয়জিৎ দেবনাথ। তার এই গবেষণা সামাজিক জগতে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট মহল। গবেষক বলেন, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষেরা বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। তাদের মধ্যে কর্মসংস্থানের অভাব, সরকারে বিভিন্ন প্রবেশাধিকার স্কিম, শিক্ষাগত সমস্যা, সামাজিক বৈষম্য, যৌন হয়রানি, ক্রমাগত ধমক, এবং অপমান, নিম্ন আয়ের স্তর, নিম্ন সামাজিক মর্যাদা এবং নিম্ন পরিবার দ্বারা আবদ্ধ বন্ধন।

এমনকি তাদের পেশাগত জীবনেও তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মানসিক হয়রানি ও সহিংসতার সম্মুখীন হয়। এগুলো থেকেই গবেষণায় তৃতীয় লিঙ্গ নিয়ে ভাবনা শুরু। তাঁর কথায়, উত্তরবঙ্গ বা ভারতে এদের জন্য আলাদা কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই। যদিও ২০১৪ সালে, যদিও ভারতের সুপ্রিম কোর্ট তাদের তৃতীয় লিঙ্গ হিসাবে বিবেচনা করেছে। এই গবেষণাটি উত্তরবঙ্গের এই সম্প্রদায়ের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, ভূ-পরিবেশগত এবং সুস্থতার পদ্ধতির উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। এই গবেষণাতে উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদা জেলার উক্ত সম্প্রদায়কে আলোকিত করা হয়েছে।

এক্ষেত্রে, উত্তরবঙ্গের ৮টি জেলার ৩৩৩ জন ওপর ও ১৯টি আখড়ার সকল জন্যসংখ্যার ওপর তথ্য নিয়ে এই দলিল। ৩৩৩ জনের মধ্যে ২৩৪ জন হিন্দু, ৭২ জন মুসলিম, ৭ জন খ্রিস্টান ও মাত্র ১জন বৌদ্ধ ধর্মের। ১৯টি আখড়ার ১২টি প্রান্তিক শহর ও ৭টি প্রত্যন্ত গ্রামীণ অঞ্চলে রয়েছে।

গবেষক বলেন, উত্তরবঙ্গে এই সম্প্রদায়ের উন্নয়নে হস্তশিল্পের ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ, একটি ‘তৃতীয়’ জেন্ডার ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক’, শিক্ষা বা চাকরির ক্ষেত্রে বিশেষ সংরক্ষণ, হিজড়াদের জন্য আলাদা বিভিন্ন জায়গায় টয়লেট এবং হাসপাতালে আলাদা নির্দিষ্ট ওয়ার্ড প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে তারা যেন ভিক্ষা না করে। এদের জন্য কোনো বৃদ্ধাশ্রম নেই। তাঁদের নিজেস্ব ফ্যামিলি -ট্রি আছে। গবেষক জয়জিৎ দেবনাথ বলেন, এমন কাজে ওই সম্প্রদায়ের বড়মা সোনামনি শেখ জানিয়েছেন, তারা ভীষণ ভাবে আপ্লুত, ও তারা সম্মানিত বোধ করছেন এই সমাজের চোখে।

এদিন, গবেষণা শেষে গবেষণা পত্র তুলে দেন ভারত বাংলাদেশ তৃতীয় লিঙ্গের কমিউনিটির প্রধান সোনামুনি শেখের হাতে। এই গবেষণার শেষে বছরে একদিন ‘তৃতীয় লিঙ্গ দিবস’ পালন করার প্রস্তাব দিয়েছেন। এই গবেষণার প্রভাব আদৌ সমাজ জীবনে পড়ে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে সাধারণ মানুষ।

Advertisement
Live Cricket Score
upskillninja