#ইসলামপুর: ইসলামপুর আবৃত্তি উৎসবকে সামনে রেখে কবিতা ও আবৃত্তিপ্রেমী মানুষদের উদ্দীপনায় মুখর হয়ে উঠল এলাকা। অবুঝ সবুজ আবৃত্তি শিক্ষায়তনের ২৯ তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শ্রুতি মঞ্জিল আবৃত্তি শিক্ষায়তনের সহযোগিতায় রবিবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হল আবৃত্তি কেন্দ্রিক একটি ভিন্নধর্মী অনুষ্ঠান। ইসলামপুরের মুক্ত মঞ্চে আয়োজিত যেই অনুষ্ঠানে ছিল মানবিকতার ছোঁয়াও। উদ্বোধনী পর্বে উপস্থিত হয়েছিলেন প্রধান অতিথি হিসেবে শিলিগুড়ির সমাজকর্মী ও কবি ঊষা নন্দী ঘাটরাজ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামপুর মহকুমা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের আধিকারিক শুভদীপ দাস, সংগীত শিল্পী সঞ্জীব বাগচী, উত্তরবঙ্গ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সম্পাদক উৎপল চৌধুরী এবং সভাপতি নারায়ন দত্ত, বিশিষ্ট কবি নিশিকান্ত সিনহা, দক্ষিণ দিনাজপুর থেকে আগত চিত্রশিল্পী পিনাকী রায় চৌধুরী, বাপ্পাদিত্য রাহ।


ছিলেন বাচিক শিল্পী অনিন্দিতা বিশ্বাস, কাউন্সিলর অর্পিতা দত্ত, কৃষ্ণা দত্ত, কাউন্সিলর এর প্রতিনিধি বিক্রম দাস, শিলিগুড়ির বিশিষ্ট লেখিকা সোমা চক্রবর্তী, সাংস্কৃতিক সংগঠক দেবাশীষ মজুমদার, ইসলামপুর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষিকা মনীষা ব্যানার্জি সহ অন্যান্যরা। সুশান্ত নন্দীর স্বাগত ভাষণ দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর উদ্বোধনী নৃত্য পরিবেশন করেন আইভি বিশ্বাসের নির্দেশনায় ইসলামপুরের স্বপ্ন উড়ান নামের একটি সংস্থার শিল্পীরা। কবিতা ও সুরের মিশেলে সেই অনুষ্ঠান ছিল রীতিমত অনবদ্য। এরপর ছিল গুরু প্রণাম ও গুরু বন্দনার অনুষ্ঠান।

সেখানে সুশান্ত নন্দী তার প্রথম গুরু অর্থাৎ তার মা গীতা নন্দীকে এবং আবৃত্তির গুরু মাতা অনিন্দিতা বিশ্বাস ও সঙ্গীত জীবনের গুরু সঞ্জীব বাগচিকে গুরু প্রণাম করেন একটু ভিন্ন রকম ভাবে। এরপর সেখানে অবুঝ সবুজের কন্ঠমালা বিভাগের বাপুরাম সাপুরে ছোটদের নিয়ে এই পরিবেশনা ছিল যথার্থ। নৃত্যে রূপকথা নন্দী মালবিকা কীর্তনীয়া ও তৃপ্তি দাস বাপুরাম সাপুরেকে আরো সুন্দর করে তুলেছে। বেশ কিছু খুদে শিল্পীর একক ছড়ার পাশাপাশি ছিল আরও অন্যান্য অনুষ্ঠান। সেখানে ১০ জন বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন পড়ুয়া এবং দুস্থ পড়ুয়াকে পঠন-পাঠনের সামগ্রী যা এক বছরের জন্য প্রয়োজন তা প্রদান করা হয়।

এটি বন্টন করা হয় অবুঝ সবুজ শিক্ষায়তনের একটি প্রকল্পের মাধ্যমে। সহপাঠী নামের একটি প্রকল্পের মাধ্যমে পরুয়ারা বিভিন্ন মানুষজনের কাছ থেকে চাঁদা সংগ্রহ করে একটি তহবিল তৈরি করে এবং সেই তহবিল থেকেই এই দশ জনকে সারা বছরের পঠন-পাঠনের সরঞ্জাম দেওয়া হয়। এরপর “দুগ্গা এল বাপের বাড়ি” রচনা সুশান্ত নন্দীর ছন্দে ছড়ায় ছোটদের একটি পরিবেশন রীতিমতন ছিল আনন্দমুখর এবং একেবারেই ভিন্নধর্মী। সেখানটায় দুর্গা, লক্ষ্মী ,সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ, পুরোহিত ছাড়াও বিভিন্ন চরিত্রে অংশগ্রহণ করেন সংস্থার ক্ষুদে শিল্পীরা। এরপর আবৃত্তির বিশেষ অবদানের জন্য দুজনকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। একজন উৎপল চৌধুরী এবং একজন নারায়ন দত্ত।

এছাড়াও সম্মাননা প্রদান করা হয় শিলিগুড়ির বিশিষ্ট কবি ঊষা নন্দী ঘাটরাজ ও সোমা চক্রবর্তী কে। সম্মাননা তুলে দেওয়া হয় দুই চিত্রশিল্পী দক্ষিণ দিনাজপুরের পিনাকী রায়চৌধুরী এবং বাপ্পাদিত্য দে কে। অবুঝ সবুজ কথামালা বিভাগের ভালো রে ভালো সুকুমার রায়ের লেখা একটি ছড়া আবৃত্তিতে ছোটরা তাদের স্বকীয়তা প্রমাণ করে। এবছর অবুঝ সবুজের বেস্ট স্টুডেন্ট অ্যাওয়ার্ড পাঁচটি বিভাগের পাঁচ জনকে পুরুস্কার তুলে দেওয়া হয়। ঐশী সাহা, স্বর্ণদ্বীপ ব্যানার্জি, সুশ্রীতা দাস, মিত্রজিৎ দাস এবং ইশিকা নন্দীকে। অবুঝ সবুজের বর্ণমালা বিভাগের বৃষ্টির ফেরিওয়ালা একটি অনবদ্য উপস্থাপনা।গাছের বীজ ছড়িয়ে একটি অনন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নৃত্য ও আবৃত্তির মাধ্যমে তুলে ধরে শিশু শিল্পীরা। অবুঝ সবুজের ছন্দমালা বিভাগের সমবেত ছড়া ছিল নরেশ গুহর রুমির ইচ্ছা।

এখানে দুজন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। শঙ্খ ঘোষের লেখা বাবুমশাই কবিতাটি সমবেত আবৃত্তি করেন শ্রুতি মঞ্জিল আবৃত্তি সংস্থার শিল্পীরা। এছাড়াও এদিন ছিল সহজ পা ঠে-র একটি অংশের উপর আবৃত্তি পরিবেশনা। অবুঝ সবুজ শব্দমালার শিশু শিল্পীরা তা পরিবেশন করে। নৃত্যে ছিল চয়নিকা চন্দ। অংকন প্রতিযোগিতা সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছিল এই অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে। সেখানে প্রথম হয় সৌম্যদীপ বাগচী ,দ্বিতীয় হয় সান্নিধ্য দে, তৃতীয় হয় শ্রীতমা ঘোষ। প্রত্যেককেই পুরস্কার প্রদান করা হয়। পূর্ণেন্দু পত্রির লেখা একটি কথোপকথন ও একটি ব্যঙ্গাত্মক হাস্য রসাত্মক স্মৃতি সংলাপ নিয়ে উচ্চারণে ছিলেন অনিন্দিতা বিশ্বাস ও সুশান্ত নন্দী। শ্রুতি মঞ্জিল আবৃত্তি সংস্থার অনুষ্ঠান ছিল রনং দেহি। একটি কবিতার কোলাজ। নির্দেশনায় ছিলেন সুশান্ত নন্দী। এখানে অংশ নেন শ্রুতি মঞ্জিলের বাচিক শিল্পীরা। অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল শ্রুতি নাটক ওপারে। নির্দেশনায় সুশান্ত নন্দী।

অংশগ্রহণে অর্পিতা দত্ত, মিঠুন দত্ত, কৌশল ঘোষ, দীপ সরকার এবং কন্ঠে অর্পিতা দত্ত। কণ্ঠ মালা, কথামালা ও শব্দমালা বিভাগের অভিভাবীকাদের আবৃত্তি পরিবেশন ছিল সেদিন যথার্থ। এদিন ওই মঞ্চে পাঁচজনকে সেরা দর্শকের পুরস্কার তুলে দেওয়া হয় সেরা দর্শকের ভূমিকা পালন করার জন্য। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মিঠুন দত্ত এবং জ্যোতি বিশ্বাস। খুদে সঞ্চালক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রূপকথা নন্দী। অনুষ্ঠানে অন্যান্যভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন নীলাঞ্জন ভৌমিক, জয় দাস, সুব্রত দে এবং দীপ সরকার প্রমূখ।