
#মালবাজার: দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে সমস্ত রকম দলীয় পদ থেকে অনিদ্বিষ্ট কালের অপসারিত করা হলো মাল পৌরসভার চেয়ারম্যান স্বপন সাহাকে। মঙ্গলবার সাংবাদিক সন্মেলন করে এমন কথা জানালেন তৃনমুল কংগ্রেসের জেলা সভানেত্রী মহুয়া গোপ। এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মহুয়া গোপ বলেন, দলের উপর মহলের নির্দেশ অনুযায়ী মাল পৌরসভার চেয়ারম্যান স্বপন সাহাকে দলের সব পদ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি দলের কোন কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবেন না। পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত এই নির্দেশ বহাল থাকবে। এই নির্দেশের চিঠি স্বপন সাহাকে পাঠানো হয়েছে। জানাগেছে, মাল পৌরসভার আবাসন, পথবাতি, মার্কেট কমপ্লেক্সের দোকান বন্টন নিয়ে প্রায় ১২০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। এনিয়ে মামলাও হয়েছে। সম্প্রতি স্থানীয় এক ব্যাক্তি জনস্বার্থে মামলাও করেন। এই পরিস্থিতিতে সোমবার অতিরিক্ত জেলা শাসক সহ ১২ জন বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিক তদন্তের প্রয়োজনে মাল পৌরসভায় আসেন।

গোটা দিন ও সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই প্রতিনিধি দল বিভিন্ন দপ্তর ঘুরে তদন্ত করেন। এরপর শহর গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। পৌরসভার ভিতরেও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। শোনা যায় চেয়ারম্যানকে হয়তো সরিয়ে দিতে পারে। মঙ্গলবার সকাল থেকে শহরের মোরে মোরে জল্পনা শুরু হয়। অবশেষে মঙ্গলবার দুফুরে জলপাইগুড়ি শহরে দলের জেলা সভানেত্রী সাংবাদিক সন্মেলন করে দলের নির্দেশের কথা জানান। এদিকে মাল পৌরসভা দপ্তর সুত্রে জানাগেছে, চেয়ারম্যান ইতিমধ্যেই ইস্তফা দিয়েছেন। অন্য সুত্রে জানাগেছে, স্বপন সাহার পুলিশি নিরপত্তা তুলে নেওয়া হয়েছে।

এনিয়ে বিজেপির টাউন মন্ডল সভাপতি নবীন সাহা বলেন, মাল পৌরসভায় সীমাহীন দুর্নীতি হয়েছে। এনিয়ে বার বার আমরা অভিযোগ করছিলাম। আজ প্রমাণিত হলো। সিপিএমের এরিয়া কমিটির সম্পাদক রাজা দত্ত বলেন, গত আটই আগস্ট আমরা পৌরসভায় বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে ডেপুটেশন দিয়েছিলাম। সেই সময় চেয়ারম্যান বলেছিলেন দু মাসের মধ্যে বিষয়টি দেখবেন। কিন্তু, তার আগেই এই ঘটনা প্রকাশ্যে এলো। পরবর্তী চেয়ারম্যান কে হবেন তা নিয়ে শহরে জল্পনা শুরু হয়। এমনি ভাইস চেয়ারম্যান উৎপল ভাদুড়ি জানান, আমি বাইরে আছি। বিশেষ কিছু জানিনা। তবে দলের পক্ষ থেকে যে নির্দেশ দেওয়া হবে তা পালন করব।






