
#রায়গঞ্জঃ করোনাকালে বন্ধ হয়ে যাওয়া রাধিকাপুর থেকে দিল্লি মুখী প্রতিদিনের ট্রেন বন্ধ রাখা হয়। এরপর বিগত লোকসভা নির্বাচনের মুখে সাপ্তাহিক এই ট্রেন দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হলেও নিত্যদিনের এই ট্রেন ঘিরে ক্রমশই হতাশা বাড়ছে রায়গঞ্জবাসীর। প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা রক্ষা না করায় ক্রমশ ক্ষোভ বাড়ছে রায়গঞ্জ, কালিয়াগঞ্জের সাধারণ মানুষের।

উত্তর দিনাজপুর রেল উন্নয়ন মঞ্চের সম্পাদক অঙ্কুশ মৈত্র বলেন, আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি, পাটনা, মুঘলসরাই প্রয়াগরাজ , কানপুর রুটের প্রতিদিনের দিল্লির ট্রেন। যা প্রায় ৪ বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ। পরবর্তীতে ভোটের মুখে একটি সাপ্তাহিক ট্রেনের ঘোষণা হলেও, আমরা ওই রুটে ট্রেন চাইনা। রায়গঞ্জের তৎকালীন বিজেপি সাংসদ এবং বর্তমান সাংসদের উদাসীনতার জন্য রায়গঞ্জে ট্রেন চালু হচ্ছে না। রায়গঞ্জের বর্তমান ভূমিপুত্র সাংসদের ভূমিকা নিয়ে হতাশ উত্তর দিনাজপুর রেল উন্নয়ন মঞ্চ।

তিনি বলেন, দিল্লি ও কামাখ্যার প্রতিদিনের ট্রেন বর্তমান পরিকাঠামোতে চালানো সম্ভব। তবে রাধিকাপুরে অনুমোদিত দুটো অতিরিক্ত লুপ লাইনের কাজ সম্পূর্ণ করলে আর কোন অসুবিধাই থাকে না। সেই কাজও আজ অব্দি শুরু করতে ব্যর্থ রেল। সাপ্তাহিক দক্ষিণ ভারতের ট্রেন চালানোর জন্য পিট ও সিক লাইন এর মত বেসিক পরিকাঠামো অত্যন্ত জরুরী। এটা গড়ে তুলতে অন্তত ২ বছর সময় লাগবে।

সেটার অনুমোদন আনতেও সাংসদের তেমন কোন উদ্যোগ চোখে পড়ছে না যা নিয়েও তীব্র হতাশ রায়গঞ্জ বাসী। রেল উন্নয়ন মঞ্চের সদস্যদের দাবি, বালুরঘাট নতুন প্রতিদিনের দিল্লিগামী ও শিয়ালদহগামী ট্রেন পেয়েছে। ভারত বর্ষের অন্য সর্বত্র নতুন রেল ও রেলপথ নির্মাণ চলছে। রায়গঞ্জ বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মত বিচ্ছিন্ন উন্নয়ন থেকে যা প্রধানমন্ত্রীর সবকা সাথ সবকা বিকাশ মন্ত্রের পরিপন্থী।

এরকম পরিস্থিতিতে রায়গঞ্জের বর্তমান সাংসদ কার্তিক চন্দ্র পাল বলেন, হতাশ হওয়ার কিছুই নেই। দিল্লি ও দক্ষিণ ভারত গামী ট্রেন চালু হওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা মাত্র। আপাতত রাধিকাপুরে পিট লাইন ও সিক লাইনের কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে। এটা হয়ে গেলেই এই ট্রেন গুলো চালু হবে। তিনি উল্লেখ করে বলেন, কামাক্ষ্যার চেয়ে দক্ষিণ ভারত মুখী ট্রেনের বেশি দরকার। সদ্য বাজেট হয়েছে, আশা করছি এই কাজ গুলো শীঘ্রই করে দেওয়া সম্ভব হবে।





