
#শ্রীপর্ণা চট্টোপাধ্যায়: গত ২৯শে আগস্ট, ২০২৪ তারিখে রায়গঞ্জের ‘বিধান মঞ্চ’-এ অনুষ্ঠিত হল (প্রয়াত) সাহিত্যিক রবি শংকর বলের লেখা উপন্যাস-অবলম্বনে অধ্যাপক উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়ের দেওয়া নাট্যরূপ, “চন্দ্রাহতের কুটির”। প্রযোজনায় ‘ডার্ক স্টুডিও’, কলকাতা। নির্দেশনায় পৃথ্বীশ রাণা, এবং মঞ্চ ও আলোকসজ্জায় অভ্র দাশগুপ্ত।

২০১০ সাল নাগাদ রবি শংকর বল পাকিস্তানী গল্পকার সাদাত হোসেন মান্টোর কিছু লেখা অনুবাদ করার সময় প্রচণ্ডভাবে সুরাসক্ত হয়ে পড়েন, এবং তাঁকে একটি নেশামুক্তি কেন্দ্রে ভর্তি হতে হয়। এক বছর পরে সুস্থ হয়ে, সেই নেশামুক্তি কেন্দ্রের বিভিন্ন আবাসিক বা রোগীদের দৈনন্দিন জীবন নিয়ে লেখক যে গল্পটি রচনা করেন, বিধান মঞ্চে সেটাই অভিনয় করে দেখালেন ‘ডার্ক স্টুডিও’-র কলাকুশলীরা।

নেশায় আক্রান্ত মানুষেরা যে কত কষ্ট পান, এবং তাঁদের অনেকেই যে কত মান-অভিমান-আঘাতের পরে নেশার দ্রব্য নেওয়া শুরু করেন, সেটাই ‘চন্দ্রাহতের কুটির’-এর মূল কাহিনী। সপ্তদশ শতাব্দীর জাপানী কবি এবং পর্যটক মাৎসু বাসোর চোখে ধরা পড়ে নেশামুক্তি কেন্দ্রের বিভিন্ন কদর্যতা এবং আবাসিকদের কষ্ট। নাটকটিতে শব্দ এবং আলোর ব্যবহার অসাধারণ। দ্বিতীয়ার্ধে মঞ্চে বৃষ্টিধারার অবতারণা দর্শকদের চমৎকৃত করে দিয়েছিল।

প্রায় ৪০০ মানুষের উপস্থিতিতে বিধান মঞ্চ হয়ে উঠেছিল জমজমাট। আয়োজকদের পক্ষ থেকে নীলকমল সাহা, তপন নাগরা জানান যে, এই ধরনের একটি মনোজ্ঞ উপস্থাপনা নিঃসন্দেহে রায়গঞ্জের নাট্যপ্রেমী দর্শকদের উদ্বুদ্ধ করবে। বিশ্বজিৎ দেবনাথ, বিক্রম দাস, এবং অঙ্কিতা সরকাররা পুরো অনুষ্ঠানটি পরিচালনার সহযোগিতায় ছিলেন। দর্শকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নানান জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিত্ব।






