
#রায়গঞ্জ: সনাতনী প্রথা অনুযায়ী মৃত্যুর পর মৃতদেহ সৎকার করাটাই মূল রীতি। দীর্ঘকাল ধরে চলে আসা এই নিয়ম বর্তমান বিজ্ঞান চেতনায় প্রভাবিত কিছু মানুষের দ্বারা পরিবর্তিত হচ্ছে এই সমাজে। গতকাল অর্থাৎ ৯ই আগস্ট রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের দেহ দান করা হয় এনআরএস মেডিকেলে। ঠিক তার একদিন পর অর্থাৎ আজ শনিবার জেলার তৃতীয় দেহদানের ঘটনা ঘটলো কালিয়াগঞ্জে।

কালিয়াগঞ্জ এর বাসিন্দা ৯২ বছর বয়সী অনিল বিশ্বাস ওরফে কাটু বিশ্বাস শনিবার সকালে রায়গঞ্জের এক বেসরকারি নার্সিংহোমে প্রয়াত হন। এবছর মার্চ মাসে তিনি ও তার সমস্ত পরিবার দেহদানের অঙ্গীকার করেন। সেইমত আজ দেহদানের প্রক্রিয়া শুরু হয়। সাহায্যার্থে এগিয়ে আসে পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ। কিন্তু বাঁধ সাধে পরিকাঠামো গত অভাব।

রায়গঞ্জে মেডিকেল কলেজ স্থাপিত হলেও দেহদানের কোন পরিকাঠামো এখনও পর্যন্ত তৈরি হয়নি। কাজেই বিজ্ঞান মঞ্চের পক্ষ থেকে প্রথমে মালদা মেডিকেলে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু সেখানেও দেহ সংরক্ষণের জায়গা না থাকায় শিলিগুড়িতে নর্থ বেঙ্গল মেডিকেল কলেজ এন্ড হসপিটালে যোগাযোগ করা হয়। পরে শিলিগুড়ি মেডিকেলে জায়গা থাকায় অনিল বাবুর মরদেহ রওনা হয় শিলিগুড়ির পথে।

অনিল বিশ্বাসের পুত্র শান্তনু বিশ্বাস জানান, সকলের সম্মতিক্রমে এই মানবিক দায়িত্ব পালন করছে তার পরিবার। রায়গঞ্জ বিজ্ঞান মঞ্চের পক্ষ থেকে বিপুল মৈত্র বলেন, একাধিক বার তারা সংগঠনের পক্ষ থেকে রায়গঞ্জ মেডিকেলে দেহ সংরক্ষণের পরিকাঠামো গড়ে তোলার আবেদন জানিয়েছেন। কিন্তু ব্যর্থতা হাতে লেগেছে বারে বার। আগামীতেও তারা এবিষয়ে পুনরায় সচেষ্ট হবেন বলে জানান।






