
#মালবাজার: চলে গেলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও বাম জমানার ২য় সেনাপতি বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। বামফ্রন্ট ক্ষমতায় আসার আগে ও বাম আমলে মন্ত্রী থাকাকালীন তিনি বহুবার ডুয়ার্সের চাবাগান বনবস্তি এলাকায় এসেছেন। কখনো দলীয় রাজনৈতিক কাজে দলীয় সভায় আবার কখনো সরকারি কাজে ডুয়ার্সের বিভিন্ন এলাকায় এসেছেন। তার চিরাচরিত সাদা ধুতি পাঞ্চাবি কিম্বা সাদা পাজামা পাঞ্জাবি পোশাকের চলাফেরা সাদামাটা কথাবার্তা স্মরণ করে স্মৃতি মেদুরতায় আচ্ছন্ন ডুয়ার্সের বহু বামপন্থী প্রবীন মানুষেরা।

ওদলাবাড়ি এলাকার বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত প্রায় অশতিপর শিক্ষক প্রশান্ত শিকদার গত পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে বাম আন্দোলনের সঙ্গে আছেন। এখনো যথেষ্ট সচল এই প্রবীণ শিক্ষক জানান, তখন সাতেক দশকে জরুরি অবস্থা চলছে দেশ জুড়ে। আমি তখন গনতান্ত্রিক যুব ফেডারেশনের মাল ব্লক কমিটির সভাপতি। সেই সময় বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক।

সেই সময় তিনি মালবাজারে আসেন। রুপালী চাবাগানের ম্যানেজার বাংলোতে সংগঠনের একটি ঘরোয়া সভা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রয়াত নেতা পরিমল মিত্র ও সুধন রাহা। সেই প্রথম দেখা, তারপর বহু সভায় উনি এসেছেন রাজনৈতিক কথাবার্তার পাশাপাশি অন্যান্য কথা হয়েছে। আজ উনি নেই কিন্তু, ওনার স্মৃতি আজও নাড়া দেয়।

প্রবীণ শ্রমিক নেতা তথা সিপিএমের মাল এরিয়া কমিটির প্রাক্তন সম্পাদক চানু দে । বয়স প্রায় ৮০ বছরের কাছে। প্রবীণ এই মানুষটি আজ বাড়িতেই থাকেন কিন্তু, স্মৃতি যথেষ্ট মজবুত। তিনি যথেষ্ট জোরের সাথে বললেন, সালটা ১৯৭৪ ডিসেম্বর মাসে মালবাজার শহরে সি আই টি ইউ’য়ের দ্বিতীয় রাজ্য সন্মেলন হয়েছিল। সেই সন্মেলনে জ্যোতি বসু সহ অন্যান্য নেতারা এসেছিলেন। ২৫ ডিসেম্বর সন্মেলনের আগের দিন প্রস্তুতি সভায় যাওয়ার জন্য ওদলাবাড়ি বাড়ি থেকে স্টেটবাসে উঠেছিলাম।

বাসে উঠতেই দেখি সামনে দাঁড়িয়ে আছে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ও শ্যামল চক্রবর্তী। ওনারা শিলিগুড়ি থেকে বাসে করেই মালবাজার অভিমুখে আসছিলেন। আমি বসার জায়গায় করে দেই। তারপর সন্মেলনে অনেক কথা হয়েছে। ডুয়ার্সে বহুবার এসেছেন নানান বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন। আজ উনি নেই কিন্তু ওনার স্মৃতি মৃত্যু পর্যন্ত থাকবে।

বাম আমলে মাল এলাকায় চাবাগান গুলিতে যথেষ্ট পরিচিত ছিলেন সোনগাছি চাবাগানের বাসিন্দা মহেন্দ্র সিং। নব্বই ছুই ছুই বয়সে ঝুকে সেই প্রবীণ শ্রমিক আবাসনে বসে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য অসুস্থ শুনে বলেছিলেন, জরুরি অবস্থার সময় উনি এই চাবাগানের শ্রমিক মহল্লায় থেকে গেছেন।

এই রকম ভাবে নাগরাকাটা ব্লকের প্রবীণ নেতা রামলাল মুর্মু, বানারহাট, মেটেলি এলাকার বহু প্রবীণ মানুষ তার স্মৃতি স্মরণ করছে।
মন্ত্রী হওয়ার আগে তিনি বহু বার ডুয়ার্সে এসেছেন রানীচেরা, মিনগ্লাস, সোনগাছি সহ বিভিন্ন চাবাগানে সংগঠনের কাজে গেছেন। সেখানের প্রবীণদের কাছে আজও বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের স্মৃতি রয়েছে গেছে।




