
#মালবাজার: একের পর এক বাড়িঘর, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র সব চলে গেছে তিস্তা নদীর গর্ভে। গ্রামের মধ্যে দিয়েই বইছে তিস্তার প্রবল জলস্রোত। ইতিমধ্যেই গোটা ৫০ বাড়ি নদীর গ্রাসে বিলীন হয়ে গেছে। বাকিরা বাড়িঘর ভেঙে অন্যত্র চলে যেতে শুরু করেছে। কিছু মানুষ আশ্রয় নিয়েছে এলেনবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

মাল ব্লকের প্রত্যন্ত গ্রাম টটগাও বস্তি। তিস্তার পার বরাবর গড়ে ওঠা এই গ্রামে প্রায় ২০০টি পরিবারের বাস। বেশিরভাগ মানুষ কৃষিজীবি। গত ৪অক্টোবর তিস্তার প্রবল জলচ্ছাসে এই গ্রামের ভিতরে জল ঢুকে যায়। সেই সময় গ্রামের বাসিন্দাদের ত্রান শিবিরে স্থানান্তরিত সাময়িক ভাবে করা হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতেই মানুষজন বাড়ি ফিরতে শুরু করে।

এবার বর্ষা শুরু হতেই তিস্তার গতিপথ ক্রমাগত পুর্ব দিকে ধেয়ে আসতে শুরু করে। এতেই বিপদ শুরু হয় টটগাওয়ের বাসিন্দাদের। লাগাতার বৃষ্টি থাকায় নদীর রূপ ক্রমাগত ভয়াল হতে শুরু করে। আস্তে আস্তে আবাদি জমি গ্রাস করে তিস্তা। তারপর নদীর গ্রাসে চলে আসে বস্তির বাড়িঘর। পাঁচদিন আগেই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র ও জলের ট্যাংক সহ কয়েকটি বাড়ি নদীর গর্ভে বিলীন হয়।

তারপর গত কয়েকদিনে এক এক করে রাম বাহাদুর মুখিয়া, দীলিপ শর্মা, ফুলমায়া বাসনেত সহ প্রায় ৫০টি বাড়ি জলে বিলীন হয়ে গেছে। বাসিন্দারা এদিক ওদিক থাকতে শুরু করেছেন।বাকি যারা এখনো আছে তারাও বাড়িঘর ভেঙে নিয়ে যেতে শুরু করেছে।

বৃহস্পতিবার স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য অনুপ শর্মা দেখালেন, ওই যে নদীর গর্ভে এক টাওয়ার দেখা যাচ্ছে যেখানে এখন নদী বইছে সেখানেই ছিল বস্তির নিচু লাইনের বাড়িঘর। সব নদীর গ্রাসে চলে গেছে। বাকিরা পালাতে শুরু করেছে। যেভাবে নদী এগিয়ে আসছে তাতে আগামীতে এই গ্রাম থাকবে না। ইতিমধ্যেই ৮০ টি পরিবারের পুনর্বাসনের দাবি জানিয়ে প্রশাসনের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।




