Explore

Search

July 12, 2026 6:09 pm

IAS Coaching

হাতির কোরিডোরে গড়ে উঠেছে ধাবা, পাকা নির্মাণ উদ্বিগ্ন পরিবেশ প্রেমীরা

#মালবাজার: একটা সময় ছিল যখন ডুয়ার্সের অর্থনীতির বুনিয়াদ ছিল চা ও কাঠ। গত কয়েক দশক ধরে চা শিল্পের অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। বন ও বনপ্রান সংরক্ষণের আওতায় আসার পর বিকল্প হিসাবে বন ও প্রাকৃতিক পরিবেশ নির্ভর পর্যটন শিল্পের নির্ভরতা বাড়তে শুরু করে। বর্তমানে পর্যটন ডুয়ার্সের অন্যতম পরিবেশ বান্ধব কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র। গত শতকের নয়ের দশক থেকে পর্যটন শিল্পের তাগিদে বনাঞ্চলের আশেপাশে একের পর এক কংক্রিটের রিসোর্ট গড়ে উঠতে শুরু হয়।
বিরাট নির্মাণ গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে যে সরকারি বিধি ও নিয়ম রয়েছে তা অনেক ক্ষেত্রেই মানা হয় নি। রিসোর্ট গড়তে দখল হয়ে গেছে সরকারি জমি। এমনকি হাতির কোরিডোরে গড়ে উঠেছে ধাবা, রিসোর্ট ও কংক্রিটের নির্মাণ। বন দপ্তরের নির্দেশিকা রয়েছে, ‘ বন্যপ্রাণীর চলাচলের পথে কোন নির্মাণ গ্রাহ্য হবে না, হাতি বা অন্যান্য বন্য প্রানীর জন্য অবাধ চলাচলের রাস্তা ফাকা রাখতে হবে ‘। অথচ ডুয়ার্সে দেখা গেছে  সাবেক কাল থেকে পরিচিত হাতির কোরিডোরই গড়ে উঠেছে ধাবা ও কংক্রিটের নির্মাণ। রাতের অন্ধকারে উজ্জ্বল আলো ও উচ্চস্বরে ডিজে বাজার আওয়াজে যাতায়াতের বিঘ্ন ঘটছে হাতি সহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীর।
চালসা থেকে মেটেলি অভিমুখে চলে গেছে রাজ্য সরক। সেই সরকের মাঝেই রয়েছে ইন্ডং চা বাগান ও ইন্ডং মোর। ইন্ডং মোরের পশ্চিম দিকে রয়েছে উচুনিচু মনোরম ভুমি। পাস দিয়ে বয়ে গেছে গেছে কুর্তি নদী। বনদপ্তর ও পরিবেশ দপ্তর সুত্রে জানাগেছে, এই এলাকা দিয়ে বুনো হাতির দল সাকামের বনাঞ্চল থেকে ইন্ড, চালসা চা বাগান হয়ে মুর্তি নদী পেরিয়ে চাপরামারি বনাঞ্চল অভিমুখে যাতায়াত করে।আবার এই পথেই ফিরে যায়। এহেন জমির উপর গড়ে উঠেছে ধাবা ও কংক্রিটের নির্মাণ।
চালসার বিশিষ্ট পরিবশ প্রেমী মানবেন্দ্র দে সরকার এনিয়ে বলেন, এই এলাকা হাতির কোরিডোর হিসাবে পরিচিত। কিভাবে এখানে ধাবা গড়ে উঠলো?  জমির কাগজপত্র বৈধ আছে কি না?  জানিনা। যখন তৈরি হয় তখন প্রশাসনের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। তারপরও নির্মাণ হয়েছে। প্রশাসনের দেখা উচিত।
লাটাগুড়ির পরিবেশ প্রেমী অনির্বাণ মজুমদার জানান, রিসোর্ট বা ধাবা তৈরি হতে গেলে একাধিক সরকারি দপ্তরের অনুমতি বা সিলমোহর লাগে। প্রথমে স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত তারপর বিদ্যুৎ, দমকল, পরিবেশ, ফুট এন্ড সেফটি, বন সহ অন্যান্য দপ্তরের অনুমতি লাগে। আশ্চর্যজনক জমির বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই অন্যান্য দপ্তর গুলো কিভাবে সিলমোহর দিল?
এখন মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর প্রশাসন তৎপর হয়েছে। এক বনাধিকারির কথায়, আমরা এজাতীয় কোন অনুমতি দেই না। আমাদের এড়িয়ে সব কাজ চলে। পঞ্চায়েতের অনুমতির উপর ভর করেই কাজকর্ম হয়েছে।
এই রকম ভাবে হাতির যাতায়াতের কোরিডোরে পশ্চিম ডামডিম, মুর্তি সহ বিভিন্ন জায়গায় গড়ে উঠেছে একের পর এর রিসোর্ট, লজ। এতেই যাতায়াতে বাধা পেয়ে বনের পশুপাখিরা দিক ভ্রান্ত হয়ে ঢুকে পড়ছে জনবসতি এলাকায়। বাড়ছে মানুষ ও বন্যপ্রাণী সংঘাত। এতেই উদ্বিগ্ন পরিবেশ প্রেমী থেকে বনকর্মীরা।
Advertisement
Live Cricket Score
upskillninja