
#শুভজিৎ দাস, রায়গঞ্জ: দুর্নীতির অভিযোগ যেন ছাড়তেই চাইছে না রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়কে। পিএইচডি স্কলারশিপ, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা, কর্মচারী নিয়োগ সহ একাধিক বিষয় নিয়ে বিরোধীদের তোপের মুখে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আন্দোলন হয়েছে একাধিকবার। এবার রেজিস্টার নিয়োগের দুর্নীতি নিয়ে সরব হল অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার রায়গঞ্জ থানায় বর্তমান রেজিস্ট্রারের নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং যোগ্যতা নিয়ে তদন্তের দাবি তুলে এফআইআর দায়ের করা হলো।

কিন্তু প্রশ্ন কেন এই অভিযোগ? নিয়ম অনুযায়ী কোন ব্যক্তিকে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবন্ধক পদে নিযুক্ত হতে গেলে ন্যূনতম ১০ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকা বাঞ্ছনীয়। এবিভিপি দাবি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান রেজিস্ট্রার দুর্লভ সরকার নিয়োগের এই শর্ত পূরণ করেননি। রাজনৈতিক মদতেই তিনি এই পদে আসীন হয়ে আছেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য পূর্বেও এই বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ আন্দোলন করে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শুভব্রত অধিকারী অভিযোগ করেন, রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার যোগ্যতা ছাড়াই ওই পদে আসীন হয়েছেন। যার ফলে তিনি বিশেষ একটি দলের দলদাস হয়ে কাজ করছেন। তার কথায়, ” এরম অযোগ্য রেজিস্ট্রার থাকলে ন্যাকে গ্রুপ-ডি হওয়াটাই স্বাভাবিক। ” এমনকি এই মর্মে তারা রাজ্যপালকেও চিঠি দিয়ে তাদের অভিযোগ জানিয়েছেন বলে জানান।

যদিও রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবন্ধক দুর্লভ সরকারকে এবিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, “বিশ্ববিদ্যালয় চলে তার নিজস্ব আইন বা স্ট্যাটুট অনুযায়ী। সেই আইন অনুযায়ী আবেদনের ভিত্তিতে স্ক্রিনিং কমিটি আমাকে কল লেটার পাঠায়। এরপর রাজ্যপাল মনোনীত নমিনী এবং অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের দ্বারা গঠিত ইন্টারভিউ বোর্ডে ইন্টারভিউ দিই। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের ভিত্তিতে আমাকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

“এফ আই আর প্রসঙ্গে দুর্লভবাবু আরো জানান, “বর্তমানে রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থিতাবস্থাকে বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্যেই এধরনের প্রয়াস। উপাচার্যের কাছে সমস্ত বিষয়টি জানিয়েছি, অনুমতি পেলেই আইনানুপ ব্যবস্থা নেব।”




