
#রায়গঞ্জ: বুধবার সকাল থেকে রায়গঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনের বিভিন্ন ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে শুরু হয় ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া। যদিও লোকসভা নির্বাচনের মত এদিন সকাল থেকে ভোটারদের লম্বা লাইন কোনো ভোটকেন্দ্রেই দেখা যায়নি। বেলা বারোটা পর্যন্ত মাত্র ২৩ শতাংশ ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর। তুলনামূলক ভাবে এই কেন্দ্রে কিছুদিন আগের লোকসভা ভোটের চিত্রটা ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। সকাল থেকে লম্বা লাইন সহ বেলা বারোটার মধ্যে অর্ধ শতাংশ ভোট গ্রহণ হয়ে গেছিল লোকসভা নির্বাচনে।


রায়গঞ্জের করোনেশন বিদ্যালয়ের মত শহরের মধ্যিখানের ভোটকেন্দ্র হোক অথবা সুভাষগঞ্জ হাই স্কুল বা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬৮, ৭০ বা ৭১ বুথগুলি বেলা সাড়ে বারোটা একটা পর্যন্ত ফাঁকাই ছিল। বেলা বাড়ার সাথে সাথে গুটি গুটি পায়ে অবশ্য বেশ কিছু ভোটারকে বুথমুখী হতে দেখা যায়। এদিন সকাল থেকে বিভিন্ন বুথে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগ আনে বিজেপি।

রায়গঞ্জের হাই রোড কালিতলা অঞ্চলের ভোটারদের ভোটগ্রহণ কেন্দ্র পূর্বনেতাজি পল্লীর সরলা সুন্দরী জিএসএফপি স্কুলের ১২১ ও ১২২ নম্বর বুথে বিজেপি কর্মীরা অভিযোগ করেন সাধারণ ভোটারদের তৃণমূলের ভোট দেওয়ার জন্য প্রভাবিত করছে তৃণমূল কর্মীরা। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল। তাদের বক্তব্য এবার পরাজয় নিশ্চিত জেনে এ ধরনের অভিযোগ আনছে বিজেপি। দক্ষিণ আব্দুল ঘাটায় ১৯৩ নং বুথে বিজেপির নির্বাচনী ক্যাম্প অফিস ভাঙার অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে। অবশেষে বিজেপি প্রার্থী ঘটনাস্থলে এসে চেয়ার টেবিল নিজেই ওঠালেন।

রায়গঞ্জ করোনেশনের ১৪১ নং বুথে ইভিএম নষ্ট হওয়ায় স্থগিত থাকে ভোট প্রক্রিয়া। বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর ইভিএম ঠিক হলে ভোট প্রদান করেন ভোটাররা। এছাড়া রায়গঞ্জ রামকৃষ্ণ বিদ্যাভবনের বুথে এদিন বিজেপি প্রার্থী মানস ঘোষ পৌঁছাতেই তুমুল উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বিজেপি প্রার্থী অভিযোগ করেন, বুথের ভেতরে তৃণমূলের কো অর্ডিনেটর ঢুকে ভোটারদের প্রভাবিত করছেন। পুলিশ কোনো প্রতিবাদ না করে চুপচাপ দেখছে। এই অভিযোগে পালটা তৃণমূল কর্মীরা মানসবাবু উত্তেজনা সৃষ্টি করতে চাইছেন বলে হৈ হল্লা শুরু করে। ঘটনায় তুমুল উত্তেজনা ছড়ায় ভোটকেন্দ্রে।

এর পাশাপাশি ভোটের শেষ বেলায় রায়গঞ্জ করোনেশন উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী মানস ঘোষ যেতেই বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তৃণমূল সমর্থকেরা। বিক্ষোভ ও গো ব্যাক শ্লোগানের জেরে বুথ ছেড়ে চলে যান বিজেপি প্রার্থী। ঘটনায় উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়।




