Explore

Search

November 5, 2026 12:15 pm

IAS Coaching

হোয়াচন কেএসপিও-র কাছে বড় ব্যবধানে হার, তবুও নকআউটের আশা জিইয়ে রাখল ইস্টবেঙ্গল

#আনন্দ ব্যানার্জী, কলকাতা: এএফসি মহিলা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের (AWCL) ২০২৬-২৭ মরশুমে গ্রুপ বি-র দ্বিতীয় ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার হোয়াচন কেএসপিও-র কাছে ১-৪ গোলে পরাজিত হল ইস্টবেঙ্গল এফসি। বুধবার, ৪ নভেম্বর কলকাতার কিশোরভারতী ক্রীড়াঙ্গনে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে প্রথমার্ধে ১-১ গোলে সমতা বজায় রাখলেও বিরতির পর তিনটি গোল করে জয় নিশ্চিত করে কোরিয়ার দলটি।

এই জয়ের ফলে হোয়াচন কেএসপিও-র সংগ্রহ দাঁড়াল তিন পয়েন্টে। প্রথম ম্যাচে হো চি মিন সিটি উইমেন্স এফসিকে হারিয়ে তিন পয়েন্ট অর্জন করেছিল ইস্টবেঙ্গলও। ফলে গ্রুপের শেষ ম্যাচের আগে দুই দলের পয়েন্ট সমান। তবে গোলপার্থক্যে পিছিয়ে থাকায় আপাতত তৃতীয় স্থানে রয়েছে লাল-হলুদ শিবির।

শনিবার গ্রুপের শেষ ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার শক্তিশালী ৪.২৫ এসসির মুখোমুখি হবে ইস্টবেঙ্গল। ইতিমধ্যেই নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে উত্তর কোরিয়ার দলটি। অন্যদিকে, কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছতে ইস্টবেঙ্গলের সামনে রয়েছে কঠিন চ্যালেঞ্জ। ৪.২৫ এসসির বিরুদ্ধে অন্তত এক পয়েন্ট পেলেই নকআউটের টিকিট নিশ্চিত করবে মশাল গার্লস। তবে হারলেও সেরা দুই তৃতীয় স্থানাধিকারী দলের একটি হিসেবে পরবর্তী পর্বে যাওয়ার সুযোগ থাকবে তাদের। শনিবার গ্রুপ এ-র ম্যাচে ইরানের বাম খাতুন এফসি ও মায়ানমারের আয়েয়াওয়াডি এফসি-র মধ্যে খেলা ড্র হলে নিজেদের ম্যাচ শুরু হওয়ার আগেই কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে যাবে ইস্টবেঙ্গল।

এদিন ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল হোয়াচন। চোই জং-মিনের হাফভলি অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। পরে তাঁর হেড দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দেন ইস্টবেঙ্গলের গোলরক্ষক পন্থোই চানু এলাংবাম। লি সু-বিনও আস্তাম ওরাওঁকে কাটিয়ে বল জালে জড়ানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু তাঁর শট ক্রসবারের উপর দিয়ে চলে যায়।

১৫ মিনিটে ইস্টবেঙ্গলের অধিনায়ক শিল্কি দেবী হেমাম দুর্দান্ত পাসে ফাজিলা ইকওয়াপুটকে গোলের সুযোগ তৈরি করে দেন। কিন্তু হো চি মিন সিটির বিরুদ্ধে জোড়া গোল করা উগান্ডার এই ফরোয়ার্ড তাড়াহুড়ো করে শট নিতে গিয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট হন।

তবে ভুল শুধরে নিতে বেশি সময় নেননি ফাজিলা। ১৭ মিনিটে আস্তামের ক্লিয়ারেন্স থেকে বল পেয়ে গতির লড়াইয়ে কোরিয়ান ডিফেন্ডার কিম জি-হিয়নকে পিছনে ফেলে দেন তিনি। এরপর নিখুঁত শটে বল জালে পাঠিয়ে ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দেন এই তারকা ফরোয়ার্ড।

তবে ইস্টবেঙ্গলের সেই আনন্দ স্থায়ী হয়নি। ২৬ মিনিটে লি সু-বিনের ইনডাইরেক্ট ফ্রি-কিক প্রথমবার রক্ষণভাগে বাধা পায়। দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় তাঁর শট রেস্টি নানজিরির গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে ঢুকে যায়। ফলে সমতায় ফেরে হোয়াচন কেএসপিও।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই দুই দলই গোলের জন্য ঝাঁপায়। হিতোমি তানাকা ও ফাজিলার দূরপাল্লার শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। অন্যদিকে, জং-মিনের বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শট দক্ষতার সঙ্গে আটকে দেন পন্থোই।

 

৫৩ মিনিটে বিতর্কিত পরিস্থিতিতে এগিয়ে যায় কোরিয়ার দল। জং-মিনকে ফাউল করার ঘটনায় কোচ কাং সান-মি ফুটবল ভিডিও সাপোর্টের আবেদন জানান। সেই আবেদনের পর পেনাল্টি পায় হোয়াচন। পেনাল্টি থেকে উই জে-ইউন গোল করে দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।

 

এর ঠিক তিন মিনিট পর ব্যবধান বাড়ায় হোয়াচন। বাঁ দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে জং-মিনের বাড়ানো বল থেকে সহজেই গোল করেন মুন ইউন-জু। ম্যাচের ৭৬ মিনিটে কিম হিয়ন-আ-র নিখুঁত থ্রু পাস ধরে উই জে-ইউন নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন। এর সঙ্গেই হোয়াচনের ৪-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয়।

 

প্রথমার্ধে সমানে সমানে লড়াই করলেও দ্বিতীয়ার্ধে কোরিয়ার আক্রমণের সামনে কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়ে ইস্টবেঙ্গল। বড় ব্যবধানে হারলেও নকআউটের দরজা এখনও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি মশাল গার্লসের সামনে। শেষ ম্যাচে ৪.২৫ এসসির বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে তাই আশা ও অঙ্ক—দুইয়ের উপরই ভরসা রাখতে হচ্ছে লাল-হলুদ শিবিরকে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Advertisement
Live Cricket Score
upskillninja