
#রায়গঞ্জঃ প্রশাসনিক দপ্তরের আধিকারিকদের রুটিন পরিদর্শনের সময় বিপুল পুলিশ বাহিনী এবং সংবাদমাধ্যমের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করল রায়গঞ্জ মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশন। ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ও দীর্ঘদিনের সুনামের ক্ষতি হচ্ছে—এই অভিযোগ তুলে উত্তর দিনাজপুরের জেলাশাসকের দ্বারস্থ হল বণিক সংগঠন। সোমবার সন্ধ্যায় জেলাশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিজেদের ক্ষোভ ও উদ্বেগের কথা জানান সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

রায়গঞ্জ মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অতনু বন্ধু লাহিড়ী বলেন, জেলার সার্বিক অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনতে ব্যবসায়ী মহল থেকে প্রশাসনিক যন্ত্র—সকলেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে, রায়গঞ্জ-সহ, খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তর, জেলা এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ এবং অন্যান্য দপ্তরের আধিকারিকদের সাম্প্রতিক সমীক্ষা ও পরিদর্শনে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও কাঁচামালের মজুত পরীক্ষা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, প্রশাসনের কর্তৃত্ব ও আইন মেনে চলার বিষয়টিকে ব্যবসায়ীরা সম্মান করেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের উপস্থিতি ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা ব্যবসায়ীদের মান-সম্মান ও সামাজিক ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি বণিক সংগঠনের।

সংগঠনের সভাপতি ডাঃ শান্তনু দাস বলেন, কোনও ব্যবসায়ী বা ব্যবসার উপর অযাচিত চাপ তৈরি হলে সংগঠন নীরব থাকতে পারে না। সেই কারণেই জেলাশাসকের কাছে চিঠি দেওয়ার পাশাপাশি সোমবার তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

বণিক সংগঠনের দাবি, বৈঠকটি অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে হয়েছে। জেলাশাসক আশ্বাস দিয়েছেন, আগামীকাল থেকে সরকারি আধিকারিকদের রুটিন পরিদর্শনের সময় কোনও ধরনের দৃশ্য তৈরি করা হবে না এবং কোনও সংবাদমাধ্যমও সেই দলের সঙ্গে যাবে না। প্রশাসনের তরফে এমন আশ্বাস পাওয়ার পর সংগঠনের পক্ষ থেকেও প্রশাসনকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কোনও ব্যবসায়ীর পক্ষ থেকে সরকারি আধিকারিকদের কাজে বাধা বা প্রতিরোধ করা হবে না বলেও জানানো হয়েছে।

এই ঘটনাকে সংগঠনের বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন রায়গঞ্জ মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্ব। তাঁদের বক্তব্য, ব্যবসায়ীদের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে আওয়াজ তোলার ফলেই এই আশ্বাস মিলেছে। একইসঙ্গে সংগঠনের পাশে থাকা সকলকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়েছেন তাঁরা।

তবে বণিক সংগঠনের বক্তব্যের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের দৃষ্টিভঙ্গিতে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। উত্তর দিনাজপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অমিত সরকার বলেন, সংবাদকর্মীরা সেখানে কোনও আতঙ্ক সৃষ্টি করতে যাননি। তাঁরা খবরের তাগিদে এবং নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতেই প্রশাসনিক পরিদর্শনের ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছিলেন।

অমিত সরকারের বক্তব্য, “একজন সৎ ও নিয়ম মেনে চলা ব্যবসায়ীর আতঙ্কিত হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।” তাঁর মতে, প্রশাসনিক পরিদর্শন এবং সংবাদ সংগ্রহ—এই দুটি বিষয়কে এক করে দেখলে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হতে পারে। ভবিষ্যতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সংবাদকর্মীদের পেশাগত দায়িত্বের প্রতিও যথাযথ সম্মান রাখা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রশাসন, ব্যবসায়ী মহল এবং সংবাদমাধ্যম—তিন পক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের মধ্য দিয়েই যাতে ভবিষ্যতে পরিদর্শন ও সংবাদ সংগ্রহের কাজ নির্বিঘ্নে চলতে পারে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে সংশ্লিষ্ট মহল।



