
#শুভজিৎ দাস,রায়গঞ্জ: উত্তর দিনাজপুর জেলা সফরে এলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। শুক্রবার রায়গঞ্জের কর্ণজোড়ায় অবস্থিত অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসন এবং পঞ্চায়েত দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠকে মিলিত হন তিনি।

এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রায়গঞ্জের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী, উত্তর দিনাজপুরের জেলাশাসক অরবিন্দ সেভালে, রায়গঞ্জের সাংসদ কার্তিক চন্দ্র পাল, বিধায়ক উৎপল ব্রহ্মচারী, বিধায়ক হরিপদ বর্মন সহ জেলার পঞ্চায়েত দপ্তরের পদস্থ আধিকারিকরা।

বৈঠকে জেলায় চলা পঞ্চায়েত দপ্তরের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানান, রাজ্য জুড়ে পঞ্চায়েত দপ্তরের অধীনে আবাস যোজনা, জিআরএস ও এমজিএনআরইজিএ প্রকল্প, শৌচালয় নির্মাণ সহ একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ চলছে। সেই সমস্ত কাজের পর্যালোচনা এবং অগ্রগতি খতিয়ে দেখতেই জেলায় জেলায় এই বৈঠক করা হচ্ছে।

*দুর্নীতি প্রসঙ্গে কড়া বার্তা:*
পঞ্চায়েত দপ্তরে দুর্নীতি প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী বলেন, “রাজ্যজুড়ে পঞ্চায়েত দপ্তরে বিগত সরকারের আমলে প্রচুর দুর্নীতি হয়েছে। অভিযোগ এলে প্রত্যেকটা দুর্নীতির তদন্ত করবে বর্তমান সরকার।”
তিনি আরও জানান, এখনো পর্যন্ত পঞ্চায়েত সংক্রান্ত দুর্নীতি নিয়ে বেশ কিছু অভিযোগ জমা পড়েছে এবং সেগুলির তদন্ত চলছে। তবে একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, “শুধু চোরের পিছনে দৌড়ালে হবে না, উন্নয়নের দিকটাতেও নজর দিতে হবে। রাজ্যজুড়ে যে পরিমাণ Christian কাজ চলছে, সেটিকেও এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।”

*পঞ্চায়েত দপ্তরে ১০ হাজার নিয়োগ:*
পঞ্চায়েত দপ্তরে কর্মী সংকট নিয়ে মন্ত্রী স্বীকার করেন যে একাধিক পদ ফাঁকা রয়েছে। দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর কোন নিয়োগ হয়নি পঞ্চায়েতে। এই প্রসঙ্গে তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, পঞ্চায়েত দপ্তরে প্রায় ১০ হাজার কর্মী নিয়োগ করা হবে। তবে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে পিএসসি-র মাধ্যমে করা হবে।
“ইতিমধ্যেই পিএসসিতে নতুন চেয়ারম্যান এসেছেন। পুজোর পরেই পঞ্চায়েত দপ্তরে নিয়োগ নিয়ে তৎপরতা শুরু হবে,” জানান মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।

*সভাধিপতির ইস্তফায় অচলাবস্থা নয়, আশ্বাস মন্ত্রীর:*
সম্প্রতি উত্তর দিনাজপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি পম্পা পাল ইস্তফা দিয়েছেন। তারপর থেকেই সভাধিপতির পদ শূন্য রয়েছে, ফলে জেলা পরিষদের কাজে একটা অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে। এবিষয়ে প্রশ্ন করা হলে পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানান, অচলাবস্থার কোনও ব্যাপার নেই। তিনি বলেন, “বিষয়টা নিয়েই জেলাশাসকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এই সমস্যা তাড়াতাড়ি সমাধান হবে।”

মন্ত্রী আরও জানান, কোনও ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি হলে বিষয়টা জেলাশাসক দেখবেন। শুধুমাত্র সভাধিপতি ইস্তফা দেওয়াতে জেলা পরিষদ অচল হবে না, কারণ বাকি নির্বাচিত সদস্যদের মধ্যে থেকেই নতুন সভাধিপতি নির্বাচিত হবেন।




