
#রায়গঞ্জঃ উত্তর দিনাজপুর জেলা প্রশাসন এবং নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের এবার শহরের রাস্তার পাশাপাশি, শহরতলির রাস্তাগুলির দিকে নজর দেওয়ার সময় এসেছে। রায়গঞ্জ শহর সংলগ্ন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার বেহাল দশায় প্রতিদিনই দুর্ভোগে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে কার্যত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে দোস্তি মোড় থেকে কুনোর পর্যন্ত রাস্তা এবং রায়গঞ্জ জেলখানা মোড় থেকে রাড়িয়া-সিজগ্রাম পর্যন্ত রাস্তা।

অথচ এই রাস্তাগুলি দিয়ে প্রতিদিন নিত্যযাত্রীদের পাশাপাশি স্কুল-কলেজের পড়ুয়া, চাকরি ও কর্মসূত্রে যাতায়াতকারী অসংখ্য মানুষ চলাচল করেন। রাস্তার খানাখন্দ, ভাঙাচোরা অংশ এবং যানবাহনের চাপের কারণে প্রতিদিনই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে তাঁদের। বিশেষ করে ছোট ছোট স্কুলপড়ুয়াদের নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।

স্থানীয় একটি স্কুলের শিক্ষক মিলন পালের অভিযোগ, সমস্যার সঙ্গে আরও একটি বিপজ্জনক বিষয় যুক্ত হয়েছে, অফিস সময়ে এই রাস্তাগুলিতে বালি ও পাথরবোঝাই বড় বড় লরি চলাচল করছে। ফলে প্রায়ই তৈরি হচ্ছে যানজট। ব্যস্ত সময়ে ছোট গাড়ি, টোটো, বাইক, সাইকেল এবং পথচারীদের সঙ্গে ভারী লরির চলাচল পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। জীবনহানির সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে মাঝেমধ্যে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ না করলে যে কোনও দিন বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। বিশেষ করে স্কুলপড়ুয়া থেকে শুরু করে প্রতিদিনের নিত্যযাত্রী—যে কেউ মুহূর্তের মধ্যে মৃত্যুর মুখোমুখি হতে পারেন।

প্রশ্ন উঠছে, দুর্ঘটনা ঘটার পরেই কি প্রশাসনের ঘুম ভাঙবে? সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হওয়ার পর ‘দুঃখজনক ঘটনা’ বলে শোকপ্রকাশ বা সান্ত্বনা দেওয়ার বদলে দুর্ঘটনা ঘটার আগেই কেন রাস্তা সংস্কার ও ভারী যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে না?

সাধারণ মানুষের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও প্রশাসনিক আশ্বাসের বাইরে বেরিয়ে দ্রুত বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া হোক। শহরতলির এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলির অবিলম্বে সংস্কার, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং অফিস সময়ে ভারী পণ্যবাহী যান চলাচলে প্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ আরোপ করা হোক। দুর্ঘটনার খবর প্রকাশের অপেক্ষায় নয়, দুর্ঘটনা ঠেকাতেই এখনই উদ্যোগী হোক প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা। স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান ভবানন্দ বর্মন বলেন- আমরা বিষয়টি বিডিওকে জানিয়েছি।






