
#রায়গঞ্জঃ রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের মুখে অন্যতম স্লোগান ছিল লক্ষীর ভান্ডারের দেড় হাজার টাকা বদলে, মহিলাদেরকে প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা দেওয়া হবে। এতে খুশী হয়ে বহু মহিলা, তাদের মূল্যবান ভোট বিজেপি প্রার্থীদের দিয়েছেন বলে দাবি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। নতুন সরকার গঠনের পর সেই অন্নপূর্ণা ভান্ডার ঘিরে বহু তরজা শুরু হয়। অবশেষে, গতকালই বহু যোগ্য মহিলাদের একাউন্টে ঢুকেছে অন্নপূর্ণা ভান্ডারের টাকা।

আর সেই খুশির খবরেই আজ যেন পরিচারিকাদের মুখে চওড়া হাসি। মাসের নির্দিষ্ট সময়ে প্রকল্পের টাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছতেই অনেকের মধ্যেই স্বস্তি ফিরেছে। অনেকে বলছেন, খুব টেনশনে ছিলাম। স্বস্তি এসেছে বিজেপি কর্মীদেরও। কিন্তু সমস্যা তৈরি হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে শহরের একাধিক বাড়িতে পরিচারিকারা না পৌঁছানোয়। এতদিনের টেনশন কাটিয়ে আজ সকাল থেকে যেন ফুরফুরে মেজাজে কাজের মাসিরা।

মিলনপাড়া এলাকায় কাজ করেন দীপা রাজভর। তিনি বলেন, সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ থেকে শুরু করে সন্তানের পড়াশোনা, বাজার-খরচ—বিভিন্ন প্রয়োজনে এই আর্থিক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কয়েকদিনের টেনশন কাটিয়ে গতকাল রাতে একাউন্টে টাকা ঢুকেছে। তাই আজ যে সব বাড়িতে কাজ করি, সেই বাড়ির বৌদিদের বলে দিয়েছি, আজকে আর কাজে যাব না। পুরো উপভোগ করব।

এদিকে, টাকা অ্যাকাউন্টে ঢোকার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সকাল থেকেই ব্যাঙ্ক ও এটিএমগুলিতে উপভোক্তাদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। অনেকেই টাকা তোলার জন্য বেরিয়ে পড়েন। ফলে যাঁরা নিয়মিত বিভিন্ন বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করেন, তাঁদের অনেকেই আজ কাজে না গিয়ে ব্যাঙ্কমুখী হয়েছেন।

স্থানীয়দের কথায়, অন্নপূর্ণা ভান্ডারের টাকা তাঁদের কাছে শুধু সরকারি সহায়তা নয়, সংসারের নানা প্রয়োজন মেটানোর অন্যতম ভরসা। তাই টাকা ঢোকার দিনে কাজের ব্যস্ততার বদলে অনেকের গন্তব্য এখন ব্যাঙ্ক কিংবা এটিএম।

এদিকে, টাকা ঢোকার খবরে উপভোক্তাদের মধ্যে খুশির হাওয়া থাকলেও, বিপদে পড়েছেন গৃহকর্ত্রীরা। পরিচারিকা না আসায় উষ্মা প্রকাশ করেছেন তারা। উকিলপাড়ার বাসিন্দা রেনুকা রায় বলেন, আমাদের বাড়ির পরিচারিকার একাউন্টে টাকা ঢুকেছে গতকাল। আজ টাকা তুলে কিছু কেনাকাটা করবে বলে ছুটি নিয়েছে। হঠাৎ ছুটি নেওয়ায় বিপদে পড়ে গেছি।




