
#রায়গঞ্জঃ রাত পেরোলেই বিশ্ব রক্তদান দিবস। প্রতি বছর ১৪ জুন বিশ্বজুড়ে পালিত হয় World Blood Donor Day। আধুনিক রক্ত সঞ্চালন ব্যবস্থার জনক কার্ল ল্যান্ডস্টাইনারের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এই দিনটি উদযাপিত হয়। রক্তদাতাদের সম্মান জানানো এবং নিরাপদ রক্তের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিই এই দিবসের মূল লক্ষ্য।

কিন্তু বিশ্ব রক্তদান দিবসের প্রাক্কালে উত্তর দিনাজপুরে উঠে এসেছে রক্ত সংগ্রহ ব্যবস্থার একাধিক সমস্যা। দীর্ঘদিন ধরে রক্তদান আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত সমাজকর্মী আকাশ বর্মন সম্প্রতি স্বাস্থ্য ভবনের ব্লাড সেফটি বিভাগের সঙ্গে ওয়েস্ট বেঙ্গল ভলান্টারি ব্লাড ডোনার্স সোসাইটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন এবং একটি স্মারকলিপিও জমা দেন।

স্মারকলিপিতে বিশেষভাবে দুটি দাবি জানানো হয়েছে। প্রথমত, রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ব্লাড সেন্টার বর্তমানে বহুতলের ওপরের তলায় অবস্থিত। সাধারণ মানুষ, প্রবীণ রক্তদাতা এবং রোগীর পরিজনদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে সেটিকে নিচতলায় স্থানান্তরের দাবি জানানো হয়েছে।

দ্বিতীয়ত, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদা—এই তিন জেলার জন্য চালু করা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ভ্রাম্যমাণ ব্লাড কালেকশন বাসটি দীর্ঘদিন ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। রক্তদান শিবিরে গিয়ে রক্ত সংগ্রহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বাসটি দ্রুত মেরামত করে পুনরায় পরিষেবায় ফেরানোর দাবি জানানো হয়েছে।

উত্তর দিনাজপুর ভলান্টারি ব্লাড ডোনার্স ফোরামের জেলা সম্পাদক সুব্রত সরকার বলেন, “রক্ত সংগ্রহের ক্ষেত্রে আধুনিক পরিকাঠামো থাকা সত্ত্বেও তা ব্যবহারযোগ্য না থাকাটা অত্যন্ত দুঃখজনক। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ভ্রাম্যমাণ বাসটি চালু হলে জেলার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতেও রক্ত সংগ্রহের কাজ অনেক সহজ হবে।”

এ বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সমাজকর্মী কৌশিক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “বিশ্ব রক্তদান দিবসের আগে রক্তদাতাদের সুবিধা এবং নিরাপদ রক্ত সংগ্রহের পরিকাঠামো নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। একদিকে রক্তের চাহিদা বাড়ছে, অন্যদিকে বহু প্রয়োজনীয় পরিষেবা অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে রক্ত সংগ্রহের কাজে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।”

রক্তদাতা সংগঠনগুলির দাবি, প্রশাসন দ্রুত হস্তক্ষেপ করে ব্লাড সেন্টারের অবস্থান সংক্রান্ত সমস্যা এবং দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ব্লাড কালেকশন বাসটির সংস্কারের ব্যবস্থা করুক। বিশ্ব রক্তদান দিবসের প্রাক্কালে এটাই এখন উত্তরবঙ্গের স্বেচ্ছা রক্তদাতা মহলের অন্যতম প্রধান দাবি।




