
#কালিয়াগঞ্জ: মানুষ ও পশুর সম্পর্ক যে শুধুমাত্র মালিক ও পোষ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা কখনও কখনও পরিবারের সদস্যের মতোই গভীর ও আত্মিক হয়ে ওঠে—তারই এক অনন্য উদাহরণ দেখা গেল উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জে।

কালিয়াগঞ্জ থানার ডালিমগাঁও অঞ্চলের লোহাতারা গ্রামের বাসিন্দা ও পশুপ্রেমী অজিত কুমার দাস তাঁর অত্যন্ত প্রিয় পোষ্য কুকুর ‘এলিজা’র মৃত্যুর পর এক ব্যতিক্রমী ও হৃদয়স্পর্শী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। ১৪ বছর বয়সে কয়েকদিন আগে এলিজার মৃত্যু হয়। দীর্ঘ ১৪ বছরের সঙ্গ হারিয়ে শোকাহত হয়ে পড়ে গোটা পরিবার।

এলিজার মৃত্যুর পর বাড়ির পাশের একটি বাগানে তাকে সমাহিত করা হয়। কবরটি ফুল দিয়ে সাজিয়ে তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়। শুধু তাই নয়, এদিন তার আত্মার চিরশান্তি কামনায় সমস্ত ধর্মীয় রীতি মেনে নারায়ণ পূজা, নামকীর্তন এবং স্মৃতিভোজনেরও আয়োজন করেন অজিতবাবু।

অজিত কুমার দাস জানান, “এলিজা শুধু একটি পোষ্য ছিল না, সে ছিল আমাদের পরিবারের একজন সদস্য। গত ১৪ বছর ধরে কোনো প্রতিদানের আশা না করেই সে আমাদের বাড়ি ও পরিবারকে আগলে রেখেছে। তার সেই ভালোবাসা ও কর্তব্যের ঋণ কখনও শোধ করা সম্ভব নয়। এই স্মৃতিভোজন তার প্রতি আমাদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার সামান্য প্রকাশ মাত্র।”

তিনি আরও বলেন, সমাজে এখনও অনেক মানুষ রয়েছেন যারা পোষ্য প্রাণীদের যথাযথ যত্ন নেন না। অসুস্থ হলে চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে অনেক সময় তাদের পরিত্যাগও করা হয়। সেই প্রবণতার বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তুলতেই তিনি সকলের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, পোষ্যদের পরিবারের সদস্যের মতোই ভালোবাসতে এবং তাদের প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়াতে।

এই স্মরণসভা ও স্মৃতিভোজনে প্রায় ৪০০ জন স্থানীয় মানুষ অংশগ্রহণ করেন। পাশাপাশি এলাকার পথকুকুরদের জন্যও বিশেষভাবে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়, যা উপস্থিত সকলের মন ছুঁয়ে যায়।

অজিতবাবুর আহ্বানে অনুষ্ঠানে যোগ দেন ‘উত্তর দিনাজপুর অ্যানিমেলস’-এর সম্পাদক গৌতম তান্তিয়া সহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা। তাঁরা এলিজার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং তার ১৪ বছরের জীবনের স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে ১৪টি মোমবাতি প্রজ্বলন করেন। একইসঙ্গে এলিজার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে অজিতবাবু ও তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

পোষ্য প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ এবং মানবিকতার এমন বিরল দৃষ্টান্ত এলাকাজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে। এলিজার স্মৃতিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান যেন সকলকে মনে করিয়ে দিল—ভালোবাসার কোনো ভাষা নেই, কোনো প্রজাতির সীমারেখাও নেই।




