
#শিলিগুড়ি: পালাবদলের পর আগামী ১৮ই জুন থেকে শুরু হতে চলেছে রাজ্য বিধানসভার পূর্ণাঙ্গ বাজেট অধিবেশন। তার আগে উত্তরবঙ্গের অর্থনীতি, শিল্প-বাণিজ্য ও পরিকাঠামোগত উন্নয়নের খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখতে শিলিগুড়ির উত্তরকন্যায় অনুষ্ঠিত হল গুরুত্বপূর্ণ প্রি-বাজেট প্রশাসনিক বৈঠক। রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই বৈঠকে অংশ নেন উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন শিল্প ও ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা, যার মধ্যে ছিল চেম্বার অফ কমার্সের প্রতিনিধিদলও।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক, অর্থ প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন, উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার জেলাশাসক, পুলিশ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিক এবং প্রশাসনের অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তারা।

বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, “উত্তরবঙ্গ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা ও উন্নয়নমূলক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। আগামী বাজেটে এই অঞ্চলের মানুষের প্রকৃত চাহিদা ও প্রত্যাশাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সেই কারণেই সরাসরি শিল্পপতি, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের প্রতিনিধিদের মতামত সংগ্রহ করা হচ্ছে।”

সূত্রের খবর, এদিনের আলোচনায় উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি চা শিল্পের বর্তমান অবস্থা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সমস্যা, শিলিগুড়ি মহাকুমা পরিষদ এলাকার পরিকাঠামো উন্নয়ন, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং পানীয় জল সরবরাহের বিষয়গুলি বিশেষ গুরুত্ব পায়।

উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক পাহাড় ও সমতলের সমন্বিত উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে পর্যটন ও ক্ষুদ্র শিল্প ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বৃদ্ধির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। অন্যদিকে, অর্থ প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন সরকারি প্রকল্পগুলির সুবিধা দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

ওয়েষ্ট দিনাজপুর চেম্বার অফ কমার্সের সম্পাদক শঙ্কর কুন্ডু বলেন, আমাদের বণিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও উত্তরবঙ্গের ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত করতে একাধিক প্রস্তাব তুলে ধরেন। শিল্প ও বাণিজ্যের প্রসারে পরিকাঠামোগত উন্নয়ন, সহজ প্রশাসনিক পরিষেবা এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের বিষয়ে তাঁদের মতামত গুরুত্ব সহকারে শোনেন মন্ত্রীরা।

বাজেট ঘোষণার আগে উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন সংক্রান্ত বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে এবং আগামী দিনের পরিকল্পনা নির্ধারণে এই প্রি-বাজেট বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসনিক ও ব্যবসায়ী মহল।




